পয়লা বৈশাখ এখন বাঙালির জীবনে সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। এবারও সারাদেশ মেতেছে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একই হৃদয়াবেগে মিলিত হয়েছে বিপুল আনন্দযজ্ঞে। বৈশাখী উৎসবে অংশ নিতে বোরকা আর নেকাব পরেও এসেছিলেন অনেকে। বাংলামোটরের পুলিশ ব্যারিকেডে চোখে পড়লো এমন অনেককে।
স্ত্রী, শ্যালিকা, ছেলে, ছেলে বউ, নাতি নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব আবদুল লতিফ বৈশাখ উদযাপন করতে শাহবাগের চারুকলা ও টিএসসি এলাকায় যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে বোরকা-নেকাব পরে আসেন তার স্ত্রী ও শ্যালিকা। তবে মুখ ঢাকা এবং হাতে ব্যাগ থাকায় বিপত্তির মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের।
কারণ পহেলা বৈশাখে বাইরে বের হলে ব্যাগ বহন না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। ব্যাগবহনের একই অভিযোগে কল্যাণপুর থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা শাহানা ও তার স্বামী আবদুর রহমান এবং তাদের কোলের সন্তানকে পড়তে হয় বিপাকে। তবে বৈশাখের আনন্দে শামিল হতে পেরে এসব দুর্ভোগ খুব একটা পীড়া দিতে পারছে না তাদের। সর্বজনীন এ উৎসব ঠিকই উপভোগ করেছেন তারা।
এদিকে হাতব্যাগ নিয়ে আসা অনেক নারী দর্শনার্থী পুলিশের কাছে ব্যাগ জমা রাখার অনুরোধ করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু বেশিরভাগ নারী দর্শনার্থীই তাতে রাজি হচ্ছিলেন না। বাংলামোটরে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা মাজহার এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা কাউকে হয়রানি করছেন না। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তল্লাশি হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈশাখী উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে জঙ্গি হামলা হতে পারে জানিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিবেদন দিয়েছিল। উৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ যেন নাশকতা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে সেজন্য পুলিশ এ বিষয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তাই কাউকে সহানুভূতি দেখাতে গেলে আর শৃঙ্খলা বজায় থাকবে না। দুর্বৃত্তরাও সেই সুযোগ নিতে পারে।’
/জেইউ/জেএইচ/







