প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে সম্পাদিত মোটর যান চুক্তির অনুস্বাক্ষর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ভুটানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ ভুটানের জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জিয়ালিয়ং তোসখাঙ্গের রয়্যাল ব্যাংকুয়েট হলে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাসো থেসারিং তোবগে’র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ কথা বলেন।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রেক্ষিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তোবগে বলেন, ‘ভুটান বিবিআইএন প্রক্রিয়ার সঙ্গে একাত্ম এবং এই বিবিআইএন যোগাযোগ কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে তা কিভাবে জলবায়ু সমস্যার সমাধানে কার্যকরী হয় তারই প্রতীক্ষায় আছি।’
পর্যটন বিষয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী থেসারিং তোবগে বলেন, ‘কিভাবে বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে একটি পর্যটন করিডোর প্রতিষ্ঠা করা যায় সেজন্য বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে পারে ভুটান।’
প্রধানমন্ত্রী এসময় তার সরকারের উদ্যোগে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতির জন্য ভুটানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে কৃষি, দ্বৈতকর প্রত্যাহার, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল বিষয়ে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে করে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’
শহীদুল হক বলেন, ‘ভুটান ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। ভুটান এরই মধ্যে রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস ভবন গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশকে জমিও দিয়েছে।’
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘দুই দেশের যোগাযোগ খাতকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের বিষয়টি দুইনেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচিত হয়।’ জলবিদ্যুৎ বিনিময় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জলবিদ্যুৎ এই অঞ্চলের জন্য গেম চেঞ্জার হিসেবে বিবেচিত হবে। ভুটানে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে এবং সেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে তিনটি দেশেই যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসময় বাংলাদেশ ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি দূর করে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে সমতা আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ভুটানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের সফটওয়্যার কোম্পানি এরই মধ্যে ভুটানে কাজ করছে এবং তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো।’
এসময় বুড়িমারী স্থল বন্দরের অভ্যন্তরীণ কাস্টমস হাউসে বিলম্বের বিষয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।
ভুটানের চতুর্থ রাজার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক ট্রাস্ট ফান্ড করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী তোবগে বাংলাদেশের সাহায্য প্রত্যাশা করেন। শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের চিকিৎসকদের ভুটানে কাজের সুযোগ রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান তোবগে। এসময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ রাখা হতে পারে বলে জানান। ভুটানে অটিজম বিষয়য়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের জন্যও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যেকার বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সাংস্কৃতিক চুক্তি নবায়ন; বাংলাদেশ, ভুটান ও ভারতের মধ্যে ফাইবার অপটিক কানেক্টিভিটি, তিন দেশের মধ্যে সাব রিজিওনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিমসটেকের ভূমিকা প্রভৃতি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী এসময় ভুটানের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে দেওয়ার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী রয়্যাল ব্যাংকুয়েট হলে তার সম্মানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজ যোগ দেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে ভুটানে অবস্থান করছেন। বাসস।
আরও পড়ুন-
প্রধানমন্ত্রীকে ভুটানের রাজার বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা
বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই
/টিআর/






