দেশে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৭’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত আইনে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেউ এই সীমা না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
সোমবার (৮ মে) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘‘দেশে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করার জন্য আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছে। এটি একটি প্যাকেজ ছোট আইন। ‘গ্লোবালি ডুয়িং বিজনেস ক্যাটাগরি’তে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই পেছনে। ১৮৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬। সরকারের পলিসি হচ্ছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ অবস্থান ১০০ এর নিচে নিয়ে আসা। সেটা করতে গেলে আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশকে ভাল করতে হবে, বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে। তার জন্যই আইনটি করা।’’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘‘আইনে কিভাবে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসটা সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে তার আইডিয়া দেওয়া হয়েছে। ‘কেন্দ্রীয় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে চারটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং বাংলাদেশ হাইটেক কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত আইনে কেন্দ্রীয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এই কাজের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইনে যে সীমাবদ্ধতা আছে তা সুপারসিড করে এই আইনটাকে প্রাধ্যান্য দেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২৭টি ক্রাইটেরিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ১৬ ধরনের সেবা দেবে।এগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রেড লাইসেন্স, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, পরিবেশ ছাড়পত্র, নির্মাণ পারমিট, বৈদ্যুতিক কানেকশন, গ্যাস সংযোগ, পানি সংযোগ, টেলিফোন লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগ, বিস্ফোরক লাইসেন্স, কোয়ালিটি অব সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সেবা।’’
বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ২৭টি ক্রাইটেরিয়ায়। এ সেবা যেন এক জায়গায় বসে পেতে পারে, সেজন্য আইনটি করা হয়েছে। যেমন- নামের ছাড়পত্র দেবে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, নিবাসী ও অনিবাসী ভিসা দেবে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা দেবে বেজা বা হাইটেক পার্ক, অর্থনৈতিক এলাকা বা রফতানি এলাকা দেবে বেপজা, ওয়ার্ক পারমিট দেবে বেপজা বা বেজা, ট্রেড লাইসেন্স দেবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, যেমন- সিটি করপোরেশন, পৌরসভা। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ করে দেবে ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন, ভূমির ক্রয় ও লিজ রেজিস্ট্রেশন করবে রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট, নামজারি করবে ভূমি অফিস, পরিবেশগত ছাড়পত্র দেবে পরিবেশ অধিদফতর, নির্মাণ পারমিট দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন দেবে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ।
মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘যে কোনও সংস্থা এক জায়গাতে সেবা পাবে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্টে সব সংস্থার লোক থাকবে। বিডা, বেজা, বেপজা ও হাইটেক কর্তৃপক্ষ এ চারটি সংস্থা কো-অর্ডিনেট করবে। স্থানীয় পর্যায় ছাড়াও বিদেশিদের জন্যও এই সেবা থাকবে। বিদেশিদের জন্য ভিসা সহজকরণসহ কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। খসড়ায় যে টাইমফ্রেম দেওয়া হয়েছে, তা কেউ অমান্য করলে বেআইনি হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’
এর আগেও বিনিয়োগ বোর্ডে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটি আগে কার্যকর হয়নি। কারণ আইনি কাঠামো ছিল না। এখন কেউ না মানলে তাকে আইনের আওতায় নেওয়া যাবে।’
গ্লোবাল ইনক্লুশন অ্যাওয়ার্ড
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে ‘গ্লোবাল ইনক্লুশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৭’ প্রাপ্তির বিষয়টি মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। জার্মানির বার্লিনে চাইল্ড ইয়ুথ ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড জি টুয়েন্টি জার্মানি প্রেসিডেন্সি নামের প্রতিষ্ঠান আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে এই পদকে ভূষিত করে।
প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বের পাঁচটি অঞ্চলের ১৯টি রাষ্ট্রকে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। পরে একমাত্র বাংলাদেশকেই পুরস্কৃত করা হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
/এসএমএ/টিএন/








