ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তৃতীয় তলায় নিউরোসার্জারি বিভাগে সকাল ৮টার পর অস্ত্রোপচার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় জোড়া শিশু তৌফা ও তহুরাকে। সেই সময় থেকেই বাইরে অপেক্ষা করছেন শিশু দুটির মা-বাবা। সুষ্ঠুভাবে যাতে অপারেশন হয় সেজন্য তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
তৌফা-তহুরার মা সাহিদা বেগম ও বাবা রাজু মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের জন্য আপনারা দোয়া করবেন। তারা যাতে সুস্থভাবে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারে।’
সকাল ৮টার দিকে তৌফা-তহুরাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশনের জন্য প্রথমে অচেতন করা হয়। পরে সকাল ১০ টার দিকে তাদের অস্ত্রোপচার শুরু হয়।
রাজু মিয়া বলেন, ‘এখন চাওয়া একটাই। সবার দোয়। আমার সন্তান দুটোর চিকিৎসার পুরো ভার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ নিয়েছে। চিকিৎসার জন্য তার আমার খরচ হচ্ছে না। এজন্য আমি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।’
মঙ্গলবার সকালে ঢামেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক কাজল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আমরা শিশু দুটিকে পৃথকীকরণের কাজ করবো। পরে আলাদা দুটি অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) গিয়ে আবার অপারেশন করা হবে। এ কাজে ১৬-১৭ জনের একটি টিম থাকবে।’
অপারেশন কত সময় লাগতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে ডা. আশরাফুল বলেন, ‘দুটি অপারেশনে সব মিলিয়ে ৬-৭ ঘণ্টা লাগবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম অপারেশন করবেন সার্জারি বিভাগে। দ্বিতীয়টি করবেন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসকরা। পুরো অপারেশন দুটি জটিল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। যাতে শিশু দুটিকে সুস্থ করে তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারি। যেমনটা আমরা তাদের গতকালও বলেছি। তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলাম, একই সঙ্গে বলেছিলাম আমরা প্রস্তুত আছি। দোয়া করবেন যাতে সব আশঙ্কা কাটিয়ে আমরা যেন সফল হতে পারি।’
জোড়া লাগা শিশু তৌফা ও তহুরাকে গত ২১ এপ্রিল দ্বিতীয়বার ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত বছর ৮ অক্টোবর তাদের এখানে প্রথম ভর্তি করা হয়। তখন তাদের একটি সফল অপারেশনও করা হয়েছিল।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগম জোড়া কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কোমরের কাছে জোড়া লাগানো শিশু দুটির সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গই আলাদা। শুধু প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা একটি। প্রথমবার ঢামেকে ভর্তির পর অপারেশনের মাধ্যমে তাদের পায়ুপথ আলাদা করা হয়। এরপর তাদের ফের ভর্তির তারিখ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
/এসএস/এসটি/
আরও পড়ুন: জোড়া শিশুর অপারেশন চলছে








