হজের সামগ্রিক কাজ মনিটরিং শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বড় দায়িত্ব। অতীতে এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য প্রশংসা পেয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য এবছর কিছু ঘটনা ঘটেছে, ফলে আমাদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।’
বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘অতীতে প্রথম ১০ দিনে কোনও বিমানের সিট খালি যায়নি। এবার দেখছি প্রথম ১০ দিনেই অনেকে হজে যাননি। এবার ৪৬ হাজার ৭৯২ জনের ভিসা হলেও ইতোমধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছেন ২৯ হাজার ৮৩৯ জন। আরও ৪৭ হাজার ৭৬১ জনকে পরিবহণ করতে হবে। ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ বিমান এবং ২৮ আগস্ট সৌদি এয়ারলাইন্স যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার স্লট নেওয়া আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হজের সমস্যা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে। সমস্যাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সৌদি সরকার মোয়াল্লেম ফি বাড়িয়েছে। আগে ছিল ১২শ’ রিয়াল থাকলেও এবার ১৫শ’ রিয়াল করা হয়েছে। এ সমস্যা ৯১টি এজেন্সির। এ সমস্যা অনেকটা কেটে গেছে। এছাড়া হজ প্যাকেজ ঘোষণার পর এবার সৌদি সরকার ঘোষণা করেছে, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যারা হজ করেছেন তাদের দুইশ রিয়াল অতিরিক্ত দিতে হবে। এ সমস্যার করণে দেখা গেছে সর্বোচ্চ সাত হাজার হাজির সমস্যা হবে। কিন্তু মোয়াল্লেম ফি বাড়ানোর কারণে ১৭ হাজার হাজির সমস্যা হবে। আমরা আশা করছি এ সমস্যা কেটে যাবে। সৌদি সরকারের এ সিদ্ধান্ত সারা বিশ্বের জন্য কার্যকর করেছে। আজ সৌদি সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বসবে। বৈঠকে বাড়তি ফি মওকুফ করার সিদ্ধান্ত হতে পারে। না হলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি বা এসএমএস দিয়ে হাজিদের জানানো হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের কাছে ফি মওকুফ করার আবেদন করেছি।’
বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার সবার ই-ভিসা হচ্ছে। ধরা যাক একটা এজেন্সি একশ জনের জন্য আবেদন করেছে। ৮৬ জনের ভিসা প্রিন্ট হয়েছে, ১৪ জনের হয়নি। এই ১৪ জনের জন্য সবার হজযাত্রা আটকে যাবে। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইন্সে যারা টিকিট কেটেছেন তারা সরাসরি হাজী ক্যাম্পে না উঠে বিমানবন্দরে যান। ফলে রাস্তার নানা ধরনের জটিলতায় সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারেন না। তখন কিছু সময় বিমানটি অপেক্ষা করলেও শেষে তাদের রেখেই চলে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ১২টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ৩টি। আজকালের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে, যদি না হয় জটিলতা থাকবেই। আমরা সব সমস্যা সমাধান করে হজ যাত্রা নির্বিঘ্ন করবো।’
যাদের ভিসা হয়নি তাদের ভিসা করতে ও যাদের ভিসা হয়েছে তাদের বিমানের টিকিট কাটার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এই বার্তা হজ যাত্রীদের এসএমএসে জানানো হবে।’
তিনি বলেন, ‘সব কিছুর পরও সৌদি সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে বিমান কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট স্লটের অতিরিক্ত স্লটের জন্য আবেদন করেছি। যদি সৌদি সরকার আবেদনে সাড়া না দেয় তবে সরকারের পক্ষ থেকেও এ আবেদন করা হবে। হজ যাত্রীরা নির্দিষ্ট হজ ফ্লাইটের বাইরে সিড়িউল ফ্লাইটেও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। সবাই চেষ্টা করছি যাতে হজ যাত্রা সহজ হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভিসার জন্য ৯২ হাজার আবেদন করেছে। তবে ভিসা হয়েছে মাত্র ৪৬ হাজার জনের।
বিমান ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে কিনা- প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন, ‘সমন্বয়ের কোনও অভাব নেই।’
১২টি ফ্লাইট বাতিলে বিমানের কতো ক্ষতি হলো- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্ষতির পরিমান এ মুহূর্তে বলতে পারবো না।’
/এসআই/এসএনএইচ/








