ধর্ষণের ঘটনার পর সমাজে অনেকই ভুক্তভোগী নারীর দোষ খুঁজতে থাকেন। সেই নারীর পোশাক কেমন ছিল, সে রাতে বের হয়েছিল কিনা— এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন তুলে ওই ভুক্তভোগী নারীকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু দুই-তিন বছরের শিশুও তো ধর্ষণের শিকার হয়, তা কী দোষ?
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বিকালে বাংলা ট্রিবিউন আয়োজিত ‘হ্যাঁ, বলতে দ্বিধা হচ্ছে’ শীর্ষক বৈঠকিতে এসব কথা বলেন বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইসলাম।
বৈঠকিতে উদিসা ইসলাম বলেন, ‘গণমাধ্যম শুরুতে খবর নিলেও পরে ভুলে যায়। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী কিভাবে জীবনযাপন করছেন, এটার খোঁজ আর কেউ রাখে না। কিন্তু একজন ভুক্তভোগীর পরবর্তী এই সময়েই অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন।’
ধর্ষণ খবর প্রকাশে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন উদিসা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বনানীর ধর্ষণের ঘটনার মামলা নিতেই পুলিশ তিনদিন সময় নিলো। তাহলে পরিবর্তন কোথায় আসলো? গণমাধ্যমে ধর্ষণের শিকার নারীদের যে ছবি ছাপা হয়, সেই ছবি থেকেই তাদের চিহ্নিত করা যায়। অনেক সংবাদেই ধর্ষণের শিকার নারীর নাম-পরিচয় বা ঠিকানা থাকে না। কিন্তু এমনভাবে খবর পরিবেশন করা হয় যে তাদের বাড়ির ঠিকানাও চিহ্নিত হয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার যে নারী, তিনিও চিহ্নিত হয়ে যান। তাহলে কৌশল কোথায় বদলালো? গণমাধ্যমকে এসব বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।’
আইনের যথাযথ ব্যবহার না করতে পারা, ফরেনসিক টেস্টের সীমাবদ্ধতা, প্রভাবশালীদের চাপ ও সামাজিক কারণে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও অপরাধী শাস্তি না পাওয়া এবং সম্প্রতি ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা ও ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈঠকিটি আয়োজন করা হয়।
মুন্নী সাহার সঞ্চলনায় বৈঠকিতে আরও অংশ নেন পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস, সমাজকর্মী শিরিন হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মনোরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. এস এম আতিকুর রহমান, পূর্ণিমা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি পূর্ণিমা ও বাংলা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং এডিটর নজরুল কবীর।
বৈঠকিটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এটিএন নিউজে। এছাড়া বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজ থেকেও লাইভ সম্প্রচার করা হয় বৈঠকি।
আরও পড়ুন-
‘আমার লজ্জা কিসের, লজ্জা বাংলাদেশের’
‘ধর্ষণের ঘটনায় লজ্জা আমাদের, লজ্জা সমাজের’
‘ধর্ষণ সংবাদ’ প্রকাশে সতর্ক প্রস্তুতি নেই গণমাধ্যমের
‘ধর্ষণ মামলার আলামত সংগ্রহে পুলিশের দক্ষতার অভাব রয়েছে’
/সিএ/টিআর/








