আদালতের বন্ধু (অ্যামিকাস কিউরি) হিসেবে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে যারা মত দিয়েছেন, তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘উনাদের (বিচারপতি) দৃষ্টিতে আবদুল বাসেত মজুমদার আদালতের বন্ধু হতে পারেন না, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হুমায়ুন আদালতের বন্ধু হতে পারেন না। এই আইনজীবীদের তারা (বিচারপতি) আদালতের বন্ধু বানাননি। বন্ধু বানিয়েছেন তাদের, যাদের দিয়ে এসব করানো যায়।’ রবিবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আহমেদ মোহাম্মদ আল-দিহিমির সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন একসময় আওয়ামী লীগ করেছেন, এই দলটির সমালোচনা করেন। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামও একসময় আওয়ামী লীগ করতেন। উনার নির্বাচনি এলাকা থেকে তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তাই তিনিও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধাচরণ করছেন।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘টিএইচ খান বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ও হাসান আরিফ বিএনপি সরকারের আমলে অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। ফিদা কামাল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন; আর ব্যারিস্টার রোকনুদ্দিন মাহমুদ এপাশে আছেন, ওপাশেও আছেন। তিনি হাইকোর্টেও আছেন, সুপ্রিম কোর্টেও আছেন। তারা আদালতের বন্ধু। আবদুল মতিন খসরুরা আদালতের বন্ধু হতে পারেননি।’
উল্লেখ্য, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানিতে সহায়েতার জন্য চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আট বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ ১২ জন সিনিয়র আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) নিয়োগ দেন।
অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে যাদের নিয়োগ হয়, তারা হলেন, সিনিয়র টি এইচ খান, সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, এম আই ফরুকী, ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী, এ এস হাসান আরিফ ও আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
এই ১২ জন অ্যামিকাস কিউরির মধ্যে ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের বিপক্ষে মত দেন। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ কোনও মত দেননি। বাকি ৯ জন ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন।








