রোহিঙ্গা ইস্যুতে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের পূর্ণ বাস্তবায়ন চায় চায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নরওয়ে। রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী পশ্চিমা ও মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিফ করার পর রাষ্ট্রদূতরা সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। এদিকে এই বিবৃতিতে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েলও রোহিঙ্গা বিষয়ে এক বিবৃতিতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোয়েল রিফম্যান বলেন, ‘কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়নের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জোর দিয়েছে।’ স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও এ সময় তিনি জানান।
একই ভাষায় কথা বলেন অস্ট্রেলিয়া ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতও।
অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত জুলিয়া নিবলেট বলেন, ‘রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছি। আমরা কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আমরা কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়ন চাই।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সব রোহিঙ্গাকে নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন চেয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ে পশ্চিমা ও মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফ করার সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী মানবিক সহায়তা চেয়েছেন। রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়তা চেয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের প্রস্তাব করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানসম্মত ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের সহায়তাও কামনা করেছেন তিনি।
এদিকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল রোহিঙ্গা বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি অং সান সু চি ও মিয়ানমার সরকারের প্রতি আবেদন জানাই, যেন কফি আনান কমিশনের সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা হয়। এই ইস্যুতে মিয়ানমারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।’








