গ্যাস ছড়িয়েই আগুন

আমানুর রহমান রনি, শাহপরীর দ্বীপ থেকে
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৫:১৯আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২১:৩৪

শাহপরীর দ্বীপে আসা রোহিঙ্গারা রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগানোর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গ্যাস ছড়িয়ে দেয়  রাখাইন রাজ্যের গ্রামগুলোয়। এর ফলে রোহিঙ্গাদের চোখ জ্বালাপোড়া করে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এতে তারা ঘর থেকে বের হলেই ঘর-বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় গ্রাম, এরপর দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে ঘরবাড়িতে। রবিবার সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।

রাখাইনের খুইন্যাপাড়া থেকে পালিয়ে আসা জোহরা বলেন, ‘ভোর রাতে এলাকায় কী যেন ছিটিয়ে দেয়। চোখমুখ জ্বলতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরই আমাদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমি বাচ্চা নিয়ে ঘরের বাইরে দৌড়ে আসি। এরপর থেকে আমার স্বামীকে খুঁজে পাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে আসমা (৫) হারিয়েছে। তাকেও পাওয়া যাচ্ছে না। আমি মাছধরা নৌকায় করে দুই মেয়ে ও ছোট ছেলেকে নিয়ে চলে আসি। আসার সময় আমার কাছে কোনও টাকা ছিল না। তাই নাকফুল ও কানের দুল দেই।’

শাহপরীর দ্বীপের ভাঙা ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন সেতারা বেগম। তিনি এসেছেন গর্জনদিয়া থেকে। তার কোলে দুই বছরের শিশু।  তিনি বলেন, ‘চারদিকে আগুন আর আগুন। তাই নাফ নদীর দিকে দৌড়ে এসেছি। আমার স্বামীকে খুঁজে পাচ্ছি না। আসার সময় কিছুই আনতে পারিনি।’

শাহপরীর দ্বীপে রোহিঙ্গারা

সোমবার দিবাগত রাত ১ টার পর থেকে নাফ নদীতীরবর্তী মংডু এলাকা থেকে রোহিঙ্গারা আসা শুরু করে। মাছধরার ট্রলারে করে আসতে থাকে। রবিবার সকালেও তাদের আসতে দেখা গেছে। প্রথমে তারা আশ্রয় নেয় শাহপরীর দ্বীপের জেটি সংলগ্ন একটি চরে। সেখান থেকে উত্তরা পাড়ার ভাঙাঘাট পার হয়ে টেকনাফের দিকে আসে। নাফ নদীর তীরে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে আসতে দেখা গেছে।

রবিবার সকালে শাহপরীর দ্বীপে ৬০ বছরের বৃদ্ধ মো. নজির হোসেন আশ্রয় নেন। তার বাবার নাম ‍মৃত কালা মিয়া। তিনি রাছিদং-এর রাজারবিল গ্রামে থাকতেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমাদের গ্রামে আগুন দিয়েছে। আগুনে পুরো গ্রাম পুড়ে গেছে।’

জাহেদা বেগম (২৭) নামে এক নারী বলেন, ‘মংডুর নলবুনিয়ার এলাকায় থাকি। পৌরসভার পাশেই গুলি করে ২০০ মিলিটারি। আমার স্বামী দিনমজুরের কাজ করতেন। দুইটা থালা ও বাচ্চাদের কাপড় নিয়ে আমরা ঘর থেকে দৌড়ে বের হই।’

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সে দেশের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এতে ১২ পুলিশ সদস্যসহ বহু রোহিঙ্গা হতাহত হয়। এ ঘটনায় রাখাইন রাজ্যে অভিযানের নামে হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ সাধারণ মানুষের ওপর নানা নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এ কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের কথা বলা হলেও স্থানীয় সূত্রগুলোর ধারণা এই সংখ্যা আরও বেশি।  

 

/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিলো ফিনল্যান্ড
রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন‘চারপাশে ছড়িয়ে ছিল কঙ্কাল-খুলি’, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর আরাকান আর্মির হত্যাযজ্ঞ
সর্বশেষ খবর
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে:  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের