রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আজ (সোমবার) জাতীয় সংসদে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আজ রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হবে। এই সময়ে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ যদিও বলেছে, ২ লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে; আসলে সেই সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে আগে থেকেই ৬ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কাল (মঙ্গলবার) পরিস্থিতি সরেজমিনের দেখতে যাবেন। আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, তা গণহত্যার শামিল।’ সোমবার ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) একটি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে হয়, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের যে এলাকায় বসবাস করতো, সেই এলাকা থেকে মানুষজনকে সরিয়ে দিয়ে তারা শিল্প কারখানা করবে। বিশ্ববাসীর উচিত হবে এর বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা। মানবিক এই বিপর্যয় রোধকল্পে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হওয়া উচিত। মিয়ানমার সেনাবাহিনী দ্বারা নির্যাতিত হয়ে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য এসেছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাতে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে সম্মানিত হচ্ছেন।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যু উত্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আমাদের বিশ্বাস, কফি আনান কমিশন যে সুপারিশ করেছে, সেটি বিবেচনায় নিলেই এই গণহত্যা বন্ধ হবে। আমাদের মধ্যে সভ্যতা আছে, মানবতা আছে। এ কারণেই আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি, সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। ১৬ কোটির বাংলাদেশে আরও ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় আমরা দিতেই পারি। কারণ শরণার্থীদের দুঃখ কষ্ট আমরা বুঝি। একাত্তর সালে এক কোটি বাঙালি শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম।’
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির মন্তব্যের কথা তুলে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি আমাদের সব কাজের মধ্যেই ‘না’ খোঁজে। আমরা যে কোনও কাজ সুষ্ঠুভাবে করি। দেশের ও দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য করি। তারপরও বিএনপির তার সমালোচনা করে।’’
সরকারের কূটনীতিক উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের এই আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাই না। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিয়ানমার বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্ভব নয়। তাদের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক রেখেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
সংসদে আগামীকাল ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পৃথিবী নানা দেশের আইন-কানুন মাথায় রেখেই এ নিয়ে আলোচনা করবো।’








