ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘তাজিয়া মিছিল শুরু হলে সেটাকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা হবে। মিছিলটা চারপাশ দিয়ে ঘিরে রাখবে পুলিশ যাতে পথে কোনও ব্যক্তি ঢুকতে বা বের হতে না পারে। যে যে রুটে মিছিল হবে সব রোডে পুলিশ ব্যারিকেড থাকবে ও পাহারা থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। সব অপতৎপরতা বন্ধে আগে থেকেই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে হুসনি দালানে ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরাকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ‘তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে ইমামবাড়ায় দৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখনও একটি মিছিল চলছে। প্রত্যেকটি শোভাযাত্রায় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনও অঘটন ঘটেনি। ১০ মহররমকে ঘিরে বড় ধরনের তাজিয়া মিছিল হবে। সেটাকে নিরাপদ করার জন্য আমাদের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি জানান, মিছিলে সব ধরনের ঢাল-ছুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা যে নিশানা ব্যবহার করেন তা যেন ১২ ফুটের বেশি না হয় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট যেন পরিষ্কার থাকে সেজন্য সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ইামামবাড়ায় পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক থাকবে।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ইমামবাড়াগুলোতে আমরা সিসিটিভি, আরচওয়ে লাগিয়েছি। প্রত্যেকটি ইমামবাড়া সিসিটিভির আওতায় থাকবে। এসব ইমামবাড়ায় ঢুকতে হলে প্রত্যেককে আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে ঢুকতে হবে। তার আগে ডগ স্কোয়াড দিয়ে ইমামবাড়াগুলো তল্লাশি করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তাজিয়া মিছিল এবং শিয়া সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানগুলোর ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ফায়ার সার্ভিস থাকবে। মিছিল যাতে সময় মতো শুরু ও শেষ হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আশুরা ও পূজা একই সময়ে হওয়ায় কিছু বিষয়ে সম্বন্নয় করতে হচ্ছে। এজন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। যাতে সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত না হয়।’
ডিএমপি কমিশনার জানান, ধানমণ্ডিতে যেখানে মিছিল শেষ হবে সেখানেও সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ডুবুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
২০১৫ সালে তাজিয়া মিছিলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলার অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এ মামলার চার্জশিট দিয়েছে। কিছু আসামি গ্রেফতার হয়েছে। কিছু আসামি বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে।’
আরও পড়ুন:








