প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কখনও কোনও সমস্যা দেখে ভয় পায় না। মিয়ানমার থেকে নির্মমভাবে তাড়িয়ে দেওয়া লাখ লাখ লোক বাংলাদেশে চলে আসা সত্ত্বেও এদেশ এগিয়ে যাবে।’ যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিজের হোটেল কক্ষে মতবিনিময়ের সময় তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের বরাত দিয়ে বাসস এই খবর জানায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা বাঙালি জাতি যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি। ফলে কোনও সমস্যা দেখা দিলে আমরা কখনো ভয় পাই না। আমরা বরং এই সমস্যা মোকাবেলা করার মাধ্যমে আরও এগিয়ে যেতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের একজন সিনিয়র প্রতিনিধির সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের মাধ্যমে এ সংকট সমাধানে নেপিদোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ সব সময় মানবতায় বিশ্বাস করে। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিয়ানমার ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হওয়া এসব লোকজনকে আশ্রয় দিতে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মানুষ মানুষের জন্য। ফলে আমরা তাদেরকে (মিয়ানমারের জনগণ) বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে পারি না। আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে তাদের এই চরম দুঃসময়ে অতিরিক্ত পাঁচ থেকে সাত লাখ লোককেও আমরা খাওয়াতে পারবো। প্রয়োজন হলে আমরা দিনে এক বেলা খাবো এবং অপর বেলার খাবার চরম বিপদে পড়া এসব লোককে দেবো। আমরা ধনী না হলেও আমাদের হৃদয় অনেক বড় এবং আমাদের অবস্থান মানবতার পক্ষে। কোন বৈদেশিক সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে আমরা সাধ্য অনুযায়ী তাদের থাকা, খাওয়া ও ঔষধের ব্যবস্থা করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে পালিয়ে আসা দুর্ভাগা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের ভাসান চরে স্থানান্তর করা হবে।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারে বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুদের কাছ থেকে তাদের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার বর্ণনা শোনেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনগণের বদান্যতা দেখে বিস্মিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বিদেশে শরণার্থী হিসেবে তার নিজের জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি ও আমার বোন ছয় বছর ধরে এ ধরনের জীবনযাপন করায় শরণার্থী জীবনের ব্যাপারে আমরা ভালো জানি।’ সূত্র: বাসস।
আরও পড়ুন- কুতুপালং ক্যাম্পে যেতে নারাজ বান্দরবানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা








