আনিসুল হকের কুলখানি ৬ ডিসেম্বর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:১৪আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:১৭

আনিসুল হক (ছবি: সংগৃহীত) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর। ওইদিন বাদ আসর রাজধানীর গুলশানে আজাদ মসজিদে এর আয়োজন করা হয়েছে। এখানে আত্মীয়স্বজন, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
আর্মি স্টেডিয়ামে শনিবার (২ ডিসেম্বর) বাদ আসর আনিসুল হকের দ্বিতীয় জানাজার আগে নাভিদুল হক কুলখানির খবর জানান। জানাজায় প্রয়াত বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা খুবই হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। তিনি শৃঙ্খলা খুব পছন্দ করতেন। আজ আপনারা লাখো মানুষ এখানে হাজির হয়েছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু আমাদের পাওয়ার নেই। বাবা কারও সমালোচনা করলে তার ভালো গুণগুলোর কথাও বলতেন। হয়তো শহরের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে আপনাদের দুঃখ দিয়ে থাকতে পারেন। আপনারা বাবাকে মাফ করে দেবেন।’
এর আগে শনিবার দুপুর পৌনে ১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনিসুল হকের মরদেহ বহনকারী বিমান অবতরণ করে। তারপর সরাসরি বনানীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
শনিবার বিকাল ৩টায় আনিসুল হকের বনানীর বাসা থেকে আর্মি স্টেডিয়ামে আসে মরদেহ। এখানে মরহুমের প্রতি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। এর আগে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে প্রয়াত মেয়রের মরদেহ দেখতে তার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় আনিসুল হকের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের সমবেদনা জানান তিনি।

লন্ডনে সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে (লন্ডন সময় বিকাল ৪টা ২৩ মিনিট) লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিসুল হকের মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। শুক্রবার লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

আনিসুল হকের বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায়। ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর ফেনীর সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমান সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক তার ছোট ভাই।

আশির দশকে উপস্থাপক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আনিসুল হক। পরে তৈরি পোশাক খাতের সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই ও সার্ক চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাদের সংসারে এসেছে চার সন্তান। ছোট ছেলে মো. শারাফুল হক ২০০২ সালের ৭ এপ্রিল মারা যান। বাকি তিন সন্তানের মধ্যে ছেলে নাভিদুল হক মোহাম্মদী গ্রুপের পরিচালক, মেয়ে ওয়ামিক উমায়রা ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনে কাজ করছেন। তানিশা হক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন।

/এসএস/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আরেকটা অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন: জামায়াত আমির
আরেকটা অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন: জামায়াত আমির
হরমুজ বন্ধের প্রমাণ নেই: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
হরমুজ বন্ধের প্রমাণ নেই: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
সংসদে ‘আশোভন’ বক্তব্য থামছেই না, কতগুলো এক্সপাঞ্জ হলো
সংসদে ‘আশোভন’ বক্তব্য থামছেই না, কতগুলো এক্সপাঞ্জ হলো
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী
৫০১ নম্বর কক্ষকে ‘বিজয়ের প্রতীক’ ঘোষণা মামুনুল হকের
৫০১ নম্বর কক্ষকে ‘বিজয়ের প্রতীক’ ঘোষণা মামুনুল হকের
ফেসবুকে পরিচয় হওয়া বান্ধবীকে ‘উপহার দিতে এসে’ হোটেলে প্রবাসীর মৃত্যু
ফেসবুকে পরিচয় হওয়া বান্ধবীকে ‘উপহার দিতে এসে’ হোটেলে প্রবাসীর মৃত্যু
হাই স্পিড ট্রেনে বেইজিং যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
হাই স্পিড ট্রেনে বেইজিং যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী কতজন
বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী কতজন