প্রশ্ন প্রণয়নে যারা জড়িত ফাঁস রোধে তাদেরই মূল দায়িত্ব পালন করতে বলে উল্লেখ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অসিত বরণ পাল। বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউন আয়োজিত ‘প্রশ্ন ফাঁস’ শীর্ষক বৈঠকিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অসিত বরণ পাল বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে যা জানি, তা হলো প্রশ্ন যারা প্রণয়ন করেন এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত সেই শিক্ষকদেরই প্রশ্নফাঁস রোধে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের নৈতিক অবস্থানে থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। কারণ যারা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেন তাদের ওপরই পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়ার দায়িত্ব দেওয়া থাকে। বলা হয়, প্রশ্নফাঁস হলে তাদেরই দায় নিতে হবে। ফলে তাদের ক্ষমতা যেমন দেওয়া হয়েছে তেমনি দায়িত্বও দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সমাজের বাইরের কেউ নই। ফলে এই সমাজের সব ধরনের কর্ম ও কুকর্মের দায় আমাদেরই। কেউ না কেউ তো এগুলো করছেই। ইদানিং অভিভাবকদের একটা প্রবণতা রয়েছে তাদের জিপিএ ৫ পেতেই হবে, সেটা যেভাবেই হোক। এত প্রতিযোগিতার মধ্যে জিপিএ ৫ পাওয়াটা যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে সেহেতু তারা প্রশ্নের খোঁজ করেন। কারণ তারা চিন্তা করেন তার সন্তানের সঙ্গে পড়াশোনা করে তারই বন্ধু প্রশ্ন পেয়ে জিপিএ ৫ পাচ্ছে কিন্তু তিনি কি বসে থাকবেন? তখন তিনিও প্রশ্ন খুঁজতে থাকেন। আমাদের এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘অভিভাবকরা যদি চান, প্রশ্ন সামনে ঘুরে বেড়ালেও সেদিকে হাত বাড়াবেন না, তাহলেই কেবল প্রশ্ন ফাঁস কমবে। অর্থ্যাৎ প্রশ্ন ফাঁসের প্রয়োজনীয়তা কমাতে হবে।’
মাহবুবুল হকের সঞ্চালনায় বৈঠকিতে আলোচক হিসেবে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষাবিদ সলিমুল্লাহ খান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষক অমূল্য কুমার বৈদ্য ও বাংলা ট্রিবিউনের চিফ রিপোর্টার উদিসা ইসলাম।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম








