কলকাতা থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে ঢাকায় এসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালো সৌরজিৎ রায়ের দল। ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তারা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দলটির ২০ সদস্য খালি পায়ে হেঁটে শহীদ মিনারে পৌঁছান।
ফুল দেওয়ার পর বাংলা ট্রিবিউনকে সৌরজিৎ রায় বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে অনেক মিল। দুই দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাকেই এবারের র্যালি উৎসর্গ করা হয়েছে। তাছাড়া, পর্যটন করপোরেশনের পারভেজ সাহেব আমাদের খুব সাহায্য করেছেন। তিনি নিজেও আমাদের সঙ্গে এসেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগামীবার আবার আসবো। আগামী বছর র্যালিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের নামে উৎসর্গ করবো। পশ্চিমবঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে সবাই শ্রদ্ধা করেন। তার নেতৃত্বকে বিশ্বাস করেন।’
আগামীকাল বৃহস্পতিবার দলটি পশ্চিমবঙ্গে ফিরে যাবে।
মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছে সন্ধ্যায় সৌরজিৎ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দুটি দেশের যে ভাষার টান, তাকেই সম্বল করে তারা বারবার এদেশে আসছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও প্রসার করার লক্ষ্যেই এই দেশে আসা। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শেষ হয় তাদের এই যাত্রা।
তিনি বলেন, আমাদের একটি স্লোগান আছে। “বাংলা কখনও হয় না ভাগ, বাংলা ভাষায় আমরা এক” এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এই যাত্রা। জন্মের পর থেকে তিনটি জিনিস আমরা বয়ে বেড়াই–এক, নাগরিকত্ব; দুই, আমাদের ধর্ম, আর তিন, আমাদের জাতিসত্তা।’
কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে গেদে সীমান্ত পেরিয়ে দর্শনা, মেহেরপুরের মুজিবনগর, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে কুষ্টিয়ার লালন শাহের মাজার, রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহের কুঠিবাড়ি, পাবনায় সুচিত্রা সেনের বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ হয়ে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে এই দল।








