দেশের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কারাগারে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, ‘এই সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাকে নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। অথচ, এই দেশেই তাকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।’ বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ‘মাওলানা ভাসানী অনুসারী পরিষদ’-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত ‘মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৬০তম বার্ষিকী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক দু’টি সম্মেলন করেন। এরমধ্যে কাগমারী সম্মেলন অন্যতম, যা টাঙ্গাইল ও ঢাকায় হয়েছে। ভাসানীর মতো মানুষ কোনও জাতির ইতিহাসে খুব কমই আছে।’
শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুকে উদ্দেশে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘ভাসানী নামটাকে ধরে রাখার জন্য তিনি যে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আজকে এই সময় নেদারল্যান্ড, ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাকে নিয়ে গবেষণা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে তিনি কারাগারে গেছেন। আজকে এই দেশে তাকে অগ্রাহ্য করা হয়। বহু রাজনৈতিক দল বহু রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়। কিন্তু আজকের এই দিনটি পালনের তাৎপর্য কোথায়? কারা এর খবর রাখেন।’
সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘কলকাতার ৩৩ স্ট্রিটে আমরা সেদিন বাংলাদেশের কতিপয় বামপন্থী প্রগতিশীল কর্মী সমবেত হয়েছিলাম। তার মধ্যে কাজী জাফর আহমেদ, রাশেদ খান মেননসহ অনেকেই ছিলেন। সেখানকার এক প্রখ্যাত নেতা ও মন্ত্রী আমাদের আলোচনা প্রসঙ্গে বললেন, পূর্ব বাংলায় আপনারা একটি মহান নেতার আশ্রয় পেয়েছেন। আজকের এই আলোচনায় দাঁড়িয়ে বলতে আমার দ্বিধা নেই, আমরা মাওলানা ভাসানীর কাছ থেকে যে সুযোগ ও আশ্রয় পেয়েছিলাম, তা কাজে লাগাতে পারিনি।’
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, ‘কাগমারীর পথ ধরে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছেন। সেই কাগমারীর পথ ধরে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। কিন্তু আজ সে ইতিহাস বিকৃতি করা হচ্ছে। মাওলানা ভাসানীর জন্য আজকের আওয়ামী লীগের জন্ম। কাগমারী সম্মেলনে ভাসানীর পক্ষেই ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান ও সোহরাওয়ার্দীরা।’ বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কতিপয় বুদ্ধিজীবীরা সরকারি সুবিধার আশায় থাকেন। তারা দুই কুল রক্ষা করে চলেন। তাই আজকে দেশের এই অবস্থা।’
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব নঈম জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।








