কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা’র বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত আজ শুক্রবার (১৬ মার্চ) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার নাগাদ ৩৫ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হসপিটাল (টিইউটিএইচ)-এর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. প্রমোদ শ্রেষ্ঠ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ড. প্রমোদ শ্রেষ্ঠ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তারা ৩৫ জনের ময়নাতদন্ত করেছেন। শুক্রবারের মধ্যে সব মরদেহের ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ওই বিমানের ফ্লাইট ক্যাপ্টেন এবং কো-পাইলটসহ ক্রুদের টক্সিকোলজি পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কোনও বিষক্রিয়াগত প্রভাব ছিল কিনা তাও পরীক্ষা করা হবে।
এদিকে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের শনাক্ত হওয়া দেহ শিগগিরই স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ মেডিক্যাল টিমের সদস্য ও ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘৩৫ জনের লাশের কাজ শেষ করেছি। আমরা শুক্রবারের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ করতে পারবো। পরদিন থেকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করতে পারবো। কিছু লাশ দেখে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ডিএনএ প্রোফাইল করতে হবে সেগুলোর ক্ষেত্রে। এজন্য আরও সময় লাগবে।’
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা’র একটি বিমান ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে কেবল আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। অন্যদের ডিএনএ স্যাম্পল নিয়ে প্রোফাইলিং শেষে তবেই স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আহত ১০ বাংলাদেশির মধ্যে সাতজনকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়। তাদের একজনকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বিজি ০৭২) নেপাল থেকে শাহরিন আহমেদ গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গঠিত ডিজাস্টার টিমের কো-অর্ডিনেটর ডা. রাজীব রাজ মানান্ধর জানান, আহত বাংলাদেশি নাগরিক ইমরানা কবীরের (৩০) শারীরিক অবস্থা অবনতিশীল। তাকে কাঠমান্ডুতে রাখা হবে নাকি অন্য কোথাও পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আজ নেওয়ার কথা রয়েছে।








