বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০১৫ সালে শুরু হয়েছিল ‘যুদ্ধ দলিল’ প্রজেক্ট। এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন নাজমুল হাসান লিও। ধীরে ধীরে তার সঙ্গে যুক্ত হন কয়েকশ’ স্বেচ্ছাসেবক। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল— স্বাধীনতা ও গণহত্যার সঠিক ইতিহাস সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া। তিন বছর ধরে তারা নিজ উদ্যোগে সেইসব ইতিহাস ছাপিয়ে বিনামূল্যে বিতরণ করে আসছেন। তাই তাদের সংগঠনের নাম ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র থেকে বলছি’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একই নামে একটি পেজ আছে তাদের। সেখানে প্রতিদিনই বাংলায় লেখা হয় মুক্তিযুদ্ধের জানা-অজানা ইতিহাস।
২০১৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে শুরু হয় ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র থেকে বলছি’র কার্যক্রম। তখন তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে মুদ্রিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’ থেকে দেশের বিভিন্ন বিভাগের গণহত্যার ঘটনা নিয়ে বিভাগভিত্তিক সংকলন তৈরি করেন তারা। এগুলো নিজ খরচেই ছাপান তারা। এছাড়া যুদ্ধের দলিলে যেসব ইংরেজি অংশ রয়েছে সেগুলো অনুবাদ করেও এসব সংকলনে যুক্ত করছেন সংগঠনটির ৩০০’র বেশি স্বেচ্ছাসেবক।
সংগঠনটির ঢাকা জেলার সমন্বয়ক ধীমান দে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যারা সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী আছেন, তারা প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা সহায়তা হিসেবে দেন। এই টাকা দিয়ে আমরা বই ছাপিয়ে বিভিন্ন জেলায় স্কুলগুলোতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করি। আমাদের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার— প্রতিটি পরিবারে যেন তার নিজ জেলায় সংগঠিত গণহত্যার দলিল থাকে।’
জানা যায়, ৯২ হাজার পৃষ্ঠার দলিলকে বিভাগীয়ভাবে ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই ছড়িয়ে দিচ্ছে সংগঠনটি। তাদের ওয়েবসাইটেও এর একটি অংশ পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে হাসান হাফিজুর রহমানের লেখাকে তাদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। তাই এই দলিলকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তারা।
নিজেদের ওয়েবসাইটে স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলের পাশাপাশি এই সংগঠন ফ্লিকারে সংগ্রহে রেখেছে মুক্তিযুদ্ধের ৭০০’র বেশি দুর্লভ ছবি। বিভিন্ন সোর্স থেকে সংগ্রহ করে তা সবার উদ্দেশে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির ঢাকা জেলার সমন্বয়ক।
বইয়ের পাশপাশি বিভিন্ন স্কুলে মুক্তিযুদ্ধের গ্রাফিক্স নোভেলের প্রায় ৭-৮ হাজার কপি বিতরণ করেছে সংগঠনটি। যুদ্ধ দলিলের প্রজেক্ট ম্যানেজার মাইমুনা তাসনিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য— আগামী প্রজন্ম যেন সঠিক ইতিহাস জেনে বেড়ে ওঠে।’
যুদ্ধ দলিলের আরেক প্রজেক্ট ম্যানেজার জান্নাতুল মনিকা বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে চাইলে যে কেউ যুক্ত হতে পারে। কেউ যদি নিজের এলাকার স্কুলে বই বিতরণ করতে চান, সেটাও করা যাবে। ফোনে জানালেই আমরা তা পৌঁছে দেবো।’








