নেপালে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আহত ১০ বাংলাদেশির মধ্যে দুজন শাহরিন আহমেদ ও আলীমুন নাহার এ্যানী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর ইমরানা কবির হাসি, ডা. রেজওয়ান আহমেদ ও কবির হোসেন সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া, ইয়াকুব আলী ভারতে চিকিৎসাধীন।
ঢাকা মেডিক্যাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন সৈয়দ রাশেদ রুবাইয়াত, কামরুন নাহার স্বর্ণা ও মেহেদী হাসান। গত ২৬ মার্চ সেপটিসেমিয়ার কারণে মারা গেছেন শাহীন ব্যাপারী।
শাহরিন আহমেদ আগামী সপ্তাহে বাড়ি ফিরবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তবে আলীমুন নাহার এ্যানীর মানসিক অবস্থা ভালো না থাকায় তাকে কিছুদিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আগামী শনিবার অথবা রবিবার শাহরিন আহমেদকে আমরা বাড়ি যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দেবো। শাহরিন ও এ্যানী দুজনেই এখন ভালো আছেন। তবে এ্যানীকে আমরা কিছুদিন এখানে থাকার জন্য বলেছি। তার মানসিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলে তাকে হাসপাতাল ছাড়ার জন্য বলা হচ্ছে।’
গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরের দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
ইউএস-বাংলার জেনারেল ম্যানেজার ও তথ্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘যাদের সিঙ্গাপুর ও ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তারা সবাই চিকিৎসাধীন আছেন। ১০ আহতের মধ্যে শাহীন ব্যাপারী মারা গেছেন। বাকি সবাই আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছেন।’
গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলার বিমান নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী ও চার জন ক্রু ছিলেন। এ ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি ও একজন চীনা নাগরিক নিহত হন। নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ ১৯ মার্চ ও তিনজনের মরদেহ ২২ মার্চ দেশে আনার পর দাফন করা হয়।
আহত হন ১০ বাংলাদেশি, ১১ জন নেপালি ও মালদ্বীপের একজন। আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৫ মার্চ শাহরিন আহমেদকে, পরদিন মেহেদী, স্বর্ণা ও এ্যানীকে, ১৭ মার্চ সৈয়দ রাশেদ রুবাইয়াত, ১৮ মার্চ শাহীন ব্যাপারী এবং ১৯ মার্চ কবির হোসেনকে দেশে আনা হয়। পরে কবির হোসেনের অবস্থা খারাপ হলে তাকে ২৫ মার্চ রাতে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়। ২৬ মার্চ বিকালে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মারা যান শাহীন ব্যাপারী।








