কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে,তা পাকিস্তান আমলেও ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে,তা পাকিস্তান আমলেও ঘটেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’
রবিবার (৮ জুলাই) সকালে শহীদ মিনারে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত পদযাত্রা কর্মসূচিতে তিনি একথা বলেন। ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পদযাত্রা কর্মসূচিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন শিক্ষকদের পক্ষে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন। এগুলো হলো, সব হামলাকারীদের বিচার করতে হবে, আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, নারী আন্দোলনকারীদের ওপর যৌন নিপীড়কদের বিচার করতে হবে, কোটা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা জানেন আমরা আজকে এখানে কেন দাঁড়িয়েছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে,তা পাকিস্তান আমলেও ঘটেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। শিক্ষার্থীদের এ দাবি যৌক্তিক ছিল। এটা সরকারও স্বীকার করেছেন। কিন্তু সে দাবি বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলনে নামতে চাইলে,তাদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার শিকার এক ছাত্রী গণমাধ্যমের কাছে যা বলেছে,তা অকল্পনীয় ঘটনা। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাই বলতে চাই যারা হামলা করেছে,তারা সবাই চিহ্নিত। তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করার দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদেরকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা না দিয়ে বের করে দিয়েছে। এটা খুবই অমানবিক। এছাড়াও আন্দোলনকারী যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে,তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করছি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক তাসনীম মাহমুব সিরাজ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, আর্ন্তজাতিক বিভাগের শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন ।







