অন্যদিনের তুলনায় শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা না গেলেও কোথাও গণপরিবহন দেখা যায়নি। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার কারণ দেখিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা। নগরীর বাস টার্মিনালগুলো থেকেও আন্তঃনগর কিংবা দূরপাল্লার কোনও পরিবহন ছেড়ে যায়নি। দুয়েকটা বাস ছাড়া ঢাকার বাইরে থেকেও তেমন কোনও গণপরিবহন ঢাকায় প্রবেশ করতে পারেনি। ভাঙচুরের আশঙ্কায় পরিবহন নামাচ্ছেন না বলে দাবি করছেন মালিকরা। ফলে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, রাস্তায় পরিবহন নামালেই নানা অজুহাতে ভাঙচুর করা হচ্ছে। সঠিক কাগজপত্র থাকার পরেও অনেক পরিবহন ভাঙা হয়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত পাঁচশতাধিক পরিবহন ভাঙা হয়েছে। হামলার শিকারও হয়েছেন অনেক শ্রমিক। এ অবস্থায় মালিকরা চেষ্টা করলেও শ্রমিকদের রাস্তায় নামানো যাচ্ছে না। রাস্তা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সড়কে গাড়ি চলবে না বলে জানিয়েছেন বাস মালিকরা।
মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকালের চিত্র যেমন ছিল আজও তাই। আমরা কোনও পরিবহন রাস্তায় নামাইনি। রাস্তায় নামালেই ভাঙচুর, আগুন, শ্রমিকদের ওপর হামলা। একটা বাস নষ্ট হলে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। সারা বছরেও এই ক্ষতি পোষানো যায় না। এই নিরাপত্তা কে দেবে? সে জন্যই আমরা সব বাস এনে এক জায়গায় একত্রিত করে রেখেছি।’
এদিকে হঠাৎ করে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবারের পাশাপাশি আজ শুক্রবারও দিনভর ভোগান্তিতে রয়েছেন যাত্রীরা। শুক্রবার সকালে সিলেট যাওয়ার জন্য মহাখালী টার্মিনালে আসেন বেসরকারি একটি কোম্পানির কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকালও বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেছি। যেতে পারিনি। আজও যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসেছি। কিন্তু কোনও বাসই ছাড়ছে না। বাড়িতে ছোট বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে। কীভাবে যে যাই বুঝতে পারছি না।’
শিশু সন্তান ও ব্যাগ নিয়ে সকাল থেকে মহাখালী টার্মিনালে অবস্থান করছেন শ্রী দেবী। তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ যাবো। বাড়িতে আমার মা খুবই অসুস্থ। সে জন্যই এসেছি। সব কাউন্টার বন্ধ। এসে জানতে পারি কোনও পরিবহন ছাড়বে না।’
রাজধানীর ভেতরে গণপরিবহন না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সালমা আক্তার শাহবাগ এলাকায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুক্রবার বেশ কিছু নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে। বাস নেই, সিএনজি বা অন্য যানবাহনও কম। পরীক্ষার কেন্দ্র পর্যন্ত যাবো কীভাবে?’
এদিকে সকাল থেকে শ্রমিক ধর্মঘট চলছে সায়েদাবাদ টার্মিনালে। এই টার্মিনাল থেকে আন্তঃনগর কিংবা দূরপাল্লার কোনও পরিবহন ছেড়ে যায়নি। ফলে সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। বাস, মিনিবাস ও ট্রাকসহ সব ধরনের পরিবহন আটকে দেওয়ার পরেও সিএনজি, এমনটি রিকশাও চলতে দিচ্ছে না এখানকার শ্রমিকরা। বাস বন্ধ করে আন্দোলন করছেন তারা।
সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনালের বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাস্তায় কেমনে পরিবহন নামবে? শ্রমিকরা তো আতঙ্কের মধ্যে আছে। কিন্তু আমরা তো গাড়ি বন্ধ রাখিনি। শ্রমিকরা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামছে না। তারা আন্দোলনও শুরু করেছে। অনেকের ওপর হামলা হয়েছে। দূরপাল্লার কোনও বাসও ছাড়েনি।’
আরও পড়ুন- শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ








