পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছে সরকারি হাসপাতালগুলো। বুধবার (২২ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে হাসপাতাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ঈদের দিন সকালের নাস্তায় ছিল ৫ পিস পাউরুটি, জেলি, একটি কলা, বিস্কুট, সেমাই, একটি সেদ্ধ ডিম ও দুধ। দুপুরের খাবারের রয়েছে পোলাও, মুরগির রোস্ট, মুরগির রেজালা, ডিমের কোর্মা, সালাদ এবং কোমল পানীয়। রাতের খাবারে রয়েছে ভাত, মুরগি, সবজি এবং ডাল। এছাড়া বিকালে নাস্তা হিসেবে চা ও বিস্কুট।
ঢামেক সূত্রে জানা যায়, এবার ঈদে ২ হাজার ৪৭ জন রোগী আছে হাসপাতালে। তাদের সবার জন্য এই খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসক যারা রয়েছেন তাদের জন্য আলাদাভাবে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও বাইরে থেকে করা হয়। এর পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা আছে এক্সরে, সিটি স্ক্যান বিভাগ। ঈদের দিন বহির্বিভাগে সেবা বন্ধ থাকলেও ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার সীমিতভাবে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢামেকের উপ-পরিচালক (অর্থ ও স্টোর) ডা. বিদ্যুৎ কান্তি পাল।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদে হাসপাতালের রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশপাশি এক্সরে, সিটি স্ক্যান বিভাগ চালু রাখা আছে। আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সীমিত আকারে বহির্বিভাগে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হবে।’
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও প্রায় একই চিত্র। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতির মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হচ্ছে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা। এছাড়া ঈদের আগের দিন থেকেই রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন সকালে নাস্তা ছাড়াও দুপুরের খাবারে রয়েছে পোলাও, মুরগি আর সেদ্ধ ডিম। রাতের খাবারে রয়েছে ভাত, মাছ, ডাল এবং সবজি। তবে ঈদে বহির্বিভাগের সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ঈদের পরদিন তা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সোহরোওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি মনে করি ঈদ মানে আনন্দ। আমরা আজকে রোগীদের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। আমার হাসপাতালে প্রচুর চিকিৎসক, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, প্রফেসর দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি জরুরি বিভাগেও পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসক আছেন। ঈদে আমরা রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। আমরা গতকাল থেকেই এই বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছি। ফার্মেসি ও প্যাথোলজি, রেডিওলোজিও সীমিত আকারে খোলা রেখেছি। আজকে বহির্বিভাগ বন্ধ আছে তবে আগামীকাল চালু রাখা হবে।’
ঈদের দিন ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া তার সঙ্গে অন্যান্য চিকিৎসকদের নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনে বের হন। তিনি প্রতিটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সার্বিক অবস্থার খোঁজ নেন। খাবার পরিবেশনের সময় তিনি নিজেও খাবারের মান এবং স্বাদ সম্পর্কে খোঁজ নেন।







