নতুন রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনীতি করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন দল জোট করে নির্বাচনে আসবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এতে গণতন্ত্রের ভিত্তিটা আরও মজবুত হবে।
বুধবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব সংসদের বৈঠকে অনুষ্ঠিত হলেও অন্য মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
জোটের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা এখানে যুক্ত হয়েছে এরা কেউ কেউ তো মানুষকে সম্মান রেখেও কথা বলতে পারছে না। তাদের যে কথাবার্তা যা কিছু মানুষ জানতে পারছে, নারীবিদ্বেষী মনোভাব, মেয়েদের প্রতি অশালীন কথা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই আমরা, যারা জোট করছে তাদের থেকে শুনতে পারছি। জনগণের জন্য কাজ করতে গেলে যে সহনশীলতা দরকার, ত্যাগ দরকার, তা তাদের মাঝে নেই। তবে আশা করি তারা আরও সংযত হবে। এ দেশে সত্যিই রাজনৈতিক একটা জোট করে এগিয়ে যেতে চাইলে তাদের সেইভাবে চলতে হবে। তবে কেউ জঙ্গি-সন্ত্রাস বা অশালীন উক্তি করে, মানুষ যদি বিচার চায় তার বিচার করাটা রাষ্ট্রের কর্তব্য। রাষ্ট্র তা করবে এবং করে যাচ্ছে।’
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে পিছপা হই না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করি।’
আবার ক্ষমতায় গেলে কী করবেন—জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার সরকার ২০২১, ২০৪১ ও ২১০০ সালের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘জানি না কতদিন বাঁচবো। ২০২১ সাল পর্যন্ত বাঁচবো কিনা, তা জানি না। এখন তো বয়োবৃদ্ধ হয়ে গেছি। তবে উন্নয়নের গতিটা অব্যাহত থাকবে। আবার যদি ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে চলমান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবো। এর পাশাপাশি আমাদের মূল কাজ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মাটিতে এদের স্থান হবে না। দুর্নীতি দূর করে সুষ্ঠু ব্যবস্থার করে জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ে তোলাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।’
রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পদক্ষেপ প্রশ্নে জাতীয় পার্টির নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আইডি কার্ড প্রদানসহ সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়ে তাদের সুরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি যে এরা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে। এ ধরনের তথ্য আমরা পাই না। এরা যাতে কোনোভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে তার জন্য আমরা সব সময় সতর্ক আছি।’








