আদর্শের প্রশ্নে ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি মাওলানা সা’দ কান্ধলভির সঙ্গে নিজেদের মতবিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা জুবায়ের আহমদ। তিনি বলেন, ‘সা’দপন্থীদের সঙ্গে কোনও আপস সম্ভব নয়।’ টঙ্গী ইজতেমার মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় রবিবার (২ নভেম্বর) বিকালে পল্টনে একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এই প্রথমবারের মতো তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্যের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাওলানা জুবায়ের আহমদ বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলাম। সেখানেও এ প্রশ্ন এসেছিল, সবাই মিলে যাই, শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করি। তখন আমি বলেছিলাম, তারা (সা’দ অনুসারীরা) শরিয়ত পরিপন্থী। আমরা শরিয়তপন্থী, কোরআন, সুন্নাহ অনুসরণ করে চলি। সব আলেম এ কথা স্পষ্ট করে বলছেন, মাওলানা সা’দ ও তার অনুসারীরা (মাওলানা সাদ) বিভ্রান্তিকর, কোরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা নিয়ে চলছেন। যদি মিল করতে হয়, তাহলে এ প্রশ্নের জবাব দিন, যারা (সা’দ অনুসারী) শরিয়ত পরিপন্থী চলছেন, তারা আমাদের সঙ্গে মিলবেন, শরিয়তের পথে আসবেন? নাকি আমরা শরিয়তকে বিসর্জন দিয়ে তাদের মতো শরিয়তবিরোধী কাজের সঙ্গে একাত্ম হবো? বৈঠকে এ বিষয়ে কোনও জবাব পাইনি। কোরআন হাদিস নিয়ে যদি প্রশ্ন আসে, তবে আপসের প্রশ্নই আসে না। মুসলমানরা কখনোই কোরআন হাদিসের বিপরীতে কোনও পথ বেছে নিতে পারে না।’
এ সময়ে তাবলিগের সা’দবিরোধী অংশের শুরা সদস্য মাওলানা ওমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর হেফাজতের সভাপতি নূর হুসাইন কাসেমী, হেফাজতের নেতা মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে সোমবার সারা দেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকরলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভিক্টোরিয়া পার্ক মসজিদের ইমাম ও তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা আমানুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে সাদ অনুসারী ওয়াসিফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন নাসিমকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়াসহ ৬ দফা দাবি তোলা হয়।







