জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (২৩ জানুয়ারি) প্রথমবারের মতো বন অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন— পরিবেশ, বন ও জলাবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এবং একই মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।
এসময় বন বিভাগের কর্মকর্তারা গত ১০ বছরে বর্তমান সরকারের অর্জিত সাফল্য এবং কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। পরে মন্ত্রী সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে চলমান কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে উৎসাহিত করেন এবং নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে বনভূমি বাড়ানোর যে লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি, যে কোনও মূল্যে তা অর্জন করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে যে নার্সারিগুলো আছে, তার জন্য স্থায়ীভাবে জায়গা বরাদ্দের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি লেখা হবে।’
দারিদ্র্য বিমোচনের স্বার্থে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনে সড়কপথ ও রেলপথের পাশে পরিত্যক্ত জায়গাগুলো সামাজিক বনায়নের আওতায় নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করা হবে।’
বন বিভাগের দখল হয়ে যাওয়া জমির হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করে তা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। নতুন করে কোনও জায়গা যাতে বেদখল না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য তিনি সঙশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।
সুন্দরবনের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবন এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তা আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে এবং মেনে চলতে হবে।’ তিনি তার মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, ‘এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সুন্দরবনের কোনও ক্ষতি হবে না।’ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হবার আগেই সুন্দরবনের কিছু কিছু সুন্দরি গাছের পাতা বিবর্ণ হওয়ার কারণ ক্ষতিয়ে দেখতে তিনি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। উপমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘সুন্দরবন এলাকায় যে সব অনিয়ম সেগুলো রোধ করার ব্যবস্থা করা হবে।’








