আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল বলেছেন, ছিনতাইয়ের কবলে পড়া বিমানটিতে তিনি ছিলেন না। সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে তিনি এ কথা জানান। তবে ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ছিলেন। গতকাল রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে। দুবাইগামী বিমানটিকে শাহ আমানতে জরুরি অবতরণ করানো হয়। জাতীয় সংসদে মইন উদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘পত্র-পত্রিকা আর টেলিভিশনে এসেছে আমি ওই বিমানে ছিলাম। আমি ছিলাম না। প্রধানমন্ত্রীর একটা অনুষ্ঠানে ছিল। তারপর আমি ওখানে ছিলাম ঢাকায় আসার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘এয়ারপোর্টে যাওয়ার সাথে সাথে দেখলাম লোকজন দৌড়াদৌড়ি করছে। বললো, একটা প্লেন হাইজ্যাক হয়েছে। বলতে বলতে প্লেনটি ল্যান্ড করলো। আগে এই প্লেনটাতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং ছিলেন। আমি তাকে বললাম, সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এখানে থাকা। আমি টারমার্কে চলে গেলাম। টারমার্কে আমাকে দেখে অনেকে মনে করেছে, আমিও প্যাসেঞ্জার ছিলাম।’
বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি বাদল বলেন, “আমি শেষ পর্যন্ত ওখানে উপস্থিত ছিলাম। নানা কাহিনি বিস্তার লাভ করেছে। মোদ্দাকথা হলো, একজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি পেছন থেকে দৌড়ে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করছিল। পাইলটকে দরজা খোলার জন্য বলছিল। পাইলট দরজা খোলেনি। কতগুলো পত্রিকায় দেখলাম, পাইলটের সাথে তার মল্লযুদ্ধ হয়েছে। এসব কিচ্ছু হয়নি।’
বাদল বলেন, “কেউ কেউ বলছে, তখন সে একটা গুলি করেছে। ভেতরে যাত্রী ছিল। পাইলট কখনও দরজা খোলেনি। পাইলট তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছে। তখন সে বলেছে ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চাই।’ পাইলট তাকে এনগেজ করে বলেছে, ‘নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন, একটু সময় লাগবে।’ পাইলট তাকে এনগেজ রেখেছিল। পাইলট চট্টগ্রামের বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করেছে। পাইলট অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে, ঠান্ডামাথায়, সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামে প্লেনটি ল্যান্ড করে। আমাদের বিমানের যে ক্রু, তিনটা মেয়ে, দুইটা ছেলে—ওদের নাম নিম্মি, হোসনে আরা, রুমা, সাগর ও সাকুর, তারাও যাত্রীদের আশ্বস্ত করার জন্য ভূমিকা রেখেছে। তারা বিজনেস ও ইকোনমি ক্লাসের পর্দা টেনে দিয়ে দরজা খুলে দেয়। যাতে যাত্রীরা নেমে আসতে পারেন।”
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে রিয়েল হিরোরা স্বীকৃতি পায় না। আমি উপস্থিত থেকে দেখেছি ক্যাপ্টেন গোলাম শফি, ফার্স্ট অফিসার মুনতাসীর মাহবুব ও পাঁচজন ক্রু; এই বাঙালি ছেলেমেয়েরা অসম সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো, এদের যথাযথভাবে পুরস্কৃত করা উচিত। দুই ঘণ্টা ৩২ মিনিটের মাথায় বিমানবন্দর খুলে দেওয়া হয়। দুনিয়ার বহু জায়গায় সারা দিন বিমানবন্দর বন্ধ থাকে।’
আরও পড়ুন: বিমান ছিনতাইচেষ্টার বিষয়টি সংসদকে অবহিত করলেন প্রতিমন্ত্রী








