এখন থেকে কারও গোয়াল ও সীমান্ত হাটে গিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গরু চেক করবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিজিবি মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির গুলিতে তিন গুরু ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিজিবির সদর দফতর-পিলখানায় মাদক, মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকার সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিজিবি সীমান্তে শুধু তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে।’
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘সীমান্ত এলাকার মানুষ অসচ্ছল, তাই তাদের জন্য সীমান্তে ‘বিট খাতাল’ চালু করা হয়েছিল। মাঝখানে কিছুদিন তা বন্ধ করা হয়। এখনও কিছু ‘বিট খাতাল’ চালু আছে, যেগুলো আপনারা চাইলে বন্ধ করা হবে।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনজন। তারা হলেন নবাব উদ্দিন (৩৫), সাদেক (৪৫) ও জয়নুল (১২)।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে। আরও কয়েকটি বাকি রয়েছে। এগুলো হাতে আসলে সেভাবে কাজ শুরু হবে। মামলাও হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন মামলায় সংযুক্ত করা হবে।
বিগত দুইমাসে সীমান্তে হত্যা বেড়েছে। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার পরও কেন সীমান্ত হত্যা হচ্ছে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত হত্যা যেগুলো হচ্ছে তার কারণ হলো, অতি উৎসাহী হয়ে আমাদের কিছু লোক বর্ডারে চলে যায়, তার কাটতে যায়। এগুলো আপনারা দেখেছেন। এসব জায়গায় চলে গেলে ফায়ার করা হয়। আমাদের সীমান্তবর্তী দুইটি দেশের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধে আমাদের আলোচনা চলছে। তাছাড়া নিয়মিত বিজিবি-বিএসএফ-বিজিপি'র মহাপরিচালক পর্যায়ে এবং ডিসি- ডিএম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গেও আমরা একইভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সীমান্তবর্তী জেলার ডিসি, সংসদ সদস্য, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা, পুলিশের আইজি, র্যাবের ডিজি ও বিজিবি প্রধানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সীমান্তবর্তী জেলার ডিসি, সংসদ সদস্য, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা, পুলিশের আইজি, র্যাবের ডিজি ও বিজিবি প্রধানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।








