মশক নিবারণ দফতরের গল্প

সাদ্দিফ অভি
২৮ জুলাই ২০১৯, ১৮:১৯আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ১২:১৯

রাজধানীর লালবাগে অবস্থিত মশক নিবারণ দফতর

রাজধানীর মশা নিবারণের জন্য আছে একটি ‘মশক নিবারণ দফতর’। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যখন মশা মারতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই দফতর করে যাচ্ছে শুধুই প্রশাসনিক কাজ। মশা দমনের মূল লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৮ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। একসময় এই দফতরের কাজে প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে সুনসান নীরবতা। এখন শহরের মশা দমনের কাজে নয়, সিটি করপোরেশনের মশার ওষুধের খালি ড্রাম সংরক্ষণের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার হয় এই দফতরটি। সরেজমিন ঘুরে এবং সেখানকার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

মশক নিবারণী দফতরের প্রধান গেট

রাজধানীর লালবাগের ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে একটু সামনে এগুলেই হাতের ডান পাশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়, লাল রঙে বড় করে লেখা ‘মশক নিবারণী দফতর’। মূল ফটকের গায়েও ছোট করে দফতরের নামের দুটি মনোগ্রাম দেখা যায়। ভেতরে প্রবেশ করেই চোখে পড়ে সারি সারি হাজার খানেক খালি ড্রাম। এর মধ্যে কিছু ড্রাম আবার রোদ বৃষ্টিতে মরিচা পড়েছে। এর ভেতরে এবং ফাঁকে ফাঁকে জমে আছে বৃষ্টির পানি এবং কিছু কিছু জায়গায় জন্মেছে আগাছা। প্রতিটি ড্রামের ধারণ ক্ষমতা ২০০ লিটার। দুই সিটি করপোরেশনের মশা মারার ওষুধের খালি ড্রাম এখানে রাখার কথা জানা গেলেও সরেজমিন দেখা যায় বেশিরভাগ ড্রামের গায়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি উল্লেখ করা।  

এই দফতরের সীমানার ভেতরেই দুইতলা বিল্ডিং রয়েছে। এই বিল্ডিংয়ের ভেতরে এই দফতরের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলে। বিল্ডিংয়ের ভেতর নিচতলায় ঢাকা মশক নিবারণী দফতর সরকারি কর্মচারী সমিতির অফিস। সিঁড়ি বেয়ে দুই তলায় উঠতেই দেখা যায় কর্মচারীদের অফিস কক্ষ। এরকম কক্ষ আছে ১৭টি। এই অফিস চলে মূলত তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দিয়েই। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই দফতরে নিয়োজিত থাকেন। 

মশক নিবারণী দফতরের ভেতরে স্তূপ করে রাখা হাজার খানেক মশার ওষুধের খালি ড্রাম

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মশক নিবারণী দফতরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একজন সিভিল সার্জন সহকারী পরিচালক পদে এখানে দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৮০ সালের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হয় এই দফতর। এরপর ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে দফতরের মাঠকর্মী, কীট সংগ্রাহক ও পরিদর্শকেরা কাজ শুরু করেন।

দফতরের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই দফতরে ৩৪০ জনের মতো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে নেওয়া হয় ১৯৭২ সালে। সেই মুহূর্তে মশা নিধন নিয়ে প্রচুর কাজ হয়েছিল। ১৯৮১-৮২ সালে এই বিভাগটিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসা হলেও তা কোনও এক অজানা কারণে সরাসরি ঢাকা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে চলে আসে। সিটি করপোরেশন দুই ভাগ হয়ে যাওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ভাগ হয়ে যায় দুই সিটির ১০টি অঞ্চলে। এরপর প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব হারায় এবং শুধুমাত্র বসে বসে কর্মচারীদের বেতনভাতা, পেনশনের হিসাব করেই দিন যাচ্ছে। জনবলের দিক দিয়ে ২৮১ জন হলেও বর্তমানে মাত্র ১৩ জন অফিসে কাজ করেন এবং বাকিরা দুই সিটি করপোরেশনে ভাগ হয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন বলে জানান দফতরে থাকা কর্মচারীরা।  

মশার ওষুধের স্তুপ করা খালি ড্রাম

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এক সময় আমাদের কাজ ছিল মশা মারা। কিন্তু এখন আমরা শুধু ওষুধ সংরক্ষণ করি এবং দুই সিটির ১০টি অঞ্চলে বিতরণ করি। আমাদের যে জনবল ছিল তারা দুই সিটি করপোরেশনে ভাগ হয়ে কর্মী হিসেবে কাজ করছে। 

প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আ ন ম ফয়জুল হক দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে ঢাকা মশক নিবারণী দফতর সরকারি কর্মচারী সমিতির সেক্রেটারি গিয়াসউদ্দিন জানান,  প্রতিষ্ঠার সময় ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে ঢাকায় মশা মারার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। ম্যালেরিয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের মশা সব নিয়ে কাজ করতো প্রতিষ্ঠানটি। তখন সংস্থাটি বেশ জমজমাট ছিল। অনেক লোক কাজ করতেন। মশা নিয়ন্ত্রণে বেশ ভালো ভূমিকা পালন করতো এই প্রতিষ্ঠানটি।

মশক নিবারণী দফতরের কর্মচারী সমিতির অফিস

তিনি আরও বলেন, কখন কীভাবে এই অবস্থা হলো জানা নেই। প্রতিষ্ঠানটির কাজই ছিল মশা নিধন করা। কিন্তু, এখন সেই ক্ষমতা নেই। আমরা শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মশা মারার ওষুধ বিভিন্ন জোনে বিতরণ করি।

 ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/এসও/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের