কমলাপুর রেলস্টেশনে ক্ষণে ক্ষণে ট্রেনের শিডিউল পরিবর্তন করা হচ্ছে। আর এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের শঙ্কা, ‘ঈদের আগে বাড়ি যেতে পারবো তো?’ এদিকে, শিডিউল বিপর্যয় নিয়ে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। দুঃখ প্রকাশ করে নিজেদের বাঁচাতে চাইছেন তারা।
শনিবার (১১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১০টায় সরেজমিন কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রেন ছাড়ার তথ্য দেখানোর মনিটর বলছে— রাজশাহীগামী ট্রেন ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ বেলা ১১টায় কমলাপুর ছেড়ে যাবে; যদিও ট্রেনটির এই স্টেশন ছাড়ার কথা ছিল গতকাল শুক্রবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টা ১০ মিনিটে। বেলা সাড়ে ১১টায় পদ্মা এক্সপ্রেসের শিডিউল পরিবর্তন করে বলা হয়, দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়া হবে। এরপর দুপুর ১২টায় আবার সময় পরিবর্তন করে বলা হয়, বেলা ১টা ১৫ মিনিটে এই ট্রেন স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে। সর্বশেষ বেলা ১টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি কমলাপুর ছেড়ে যায়। একইভাবে সুন্দরবন, রংপুর, একতা, ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনেরও শিডিউল পরিবর্তন হচ্ছে।
রাজশাহী এক্সপ্রেসের যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় ভাই ও স্ত্রীকে নিয়ে স্টেশনে এসেছি। ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল রাত ১১টা ১০ মিনিটে। কিন্তু পরে জানানো হয় রাত ১টায় ট্রেনটি ছাড়বে। এরপর রাতেই আবার জানানো হয় সকাল ১০টায় ট্রেন ছাড়া হবে। এরপর আরও তিনবার সময় পরিবর্তন হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে বেলা ১টা ১৫ মিনিটে ট্রেন ছাড়বে। সারা রাত স্টেশনে কাটিয়েছি।’
কয়েকজন যাত্রী জানান, সকাল ৬টার রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসের শিডিউল তিনবার পরিবর্তন করে শেষমেশ সন্ধ্যা ৬টায় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সকাল ৬টার খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের শিডিউল দুইবার পরিবর্তন করে সর্বশেষ ৩টা ১০ মিনিট ঠিক করা হয়েছে। এদিকে, লালমনি এক্সপ্রেসের যাত্রাই বাতিল করা হয়েছে।
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী সনায়োর হোসেন বলেন, ‘বউ, তিন বছরের বাচ্চা ও শ্যালককে নিয়ে ভোর ৫টায় স্টেশনে এসেছি। পরে শুনি ট্রেন তখনও কমলাপুর স্টেশনে আসেনি। কখন আসবে, তাও জানানো হয়নি। এরপর একবার দুপুর ১২টায় আসার কথা জানানো হলেও ওই সময় তা আসেনি। এখন আবার ৩টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়বে বলে বলা হচ্ছে। খোঁজ নিলাম, ট্রেন এখনও গাজীপুরের দিকে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কখন ট্রেন আসবে, আবার যাত্রী তুলে কখন তা ছাড়বে, আল্লাহ জানেন। জানি না ঈদের আগে বাড়ি যেতে পারবো কিনা!’
১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে মেয়ে, ছেলের বউ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসে আছেন ৬০ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেন। ধূমকেতু এক্সপ্রেসে রাজশাহী যাবেন তারা। আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সকাল ৬টার ট্রেন সন্ধ্যা ৬টা আসবে বলা হচ্ছে। এত মানুষ কীভাবে স্টেশন থেকে বাসায় গিয়ে আবার সন্ধ্যার আগে স্টেশনে আসবে? তাই বসে আছি। এখন আল্লাহ জানেন সন্ধ্যায় ট্রেন আসে কিনা। না হলে ঈদ কমলাপুর স্টেশনেই করতে হবে!’
এ ব্যাপারে রেল সচিব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে মানুষের ঈদ আনন্দ বিষাদে পরিণত হচ্ছে। ঈদে বাড়ি যাওয়া ও অন্য কাজ নিয়ে প্রত্যেক মানুষেরই একটা পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে কোনও কোনও ক্ষেত্রে দিনও পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি শিডিউল ঠিক রাখতে। শিডিউল বিপর্যয়ের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। একইসঙ্গে কেউ টিকিট ফেরত দিলে আমরা তা নিয়ে নিচ্ছি।’








