অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধনের ব্যাপারে সরকার ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আমরা সব রিপোর্ট এখনও পাইনি। রিপোর্ট পেলে শিগগিরই কিছু অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধন পেয়ে যাবে।’ মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় নবনিযুক্ত তথ্য সচিব কামরুন নাহার ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।
গত সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে সহযোগিতা করার বিষয়ে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবো। আপনারা এও জানেন, আমি পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করছি। সেখানে আইনগত অনেক বিষয় রয়েছে। আমরা আলাপ-আলোচনা করে আপনাদের সিদ্ধান্ত জানাবো।’
সাঈদ খোকনের ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তার বক্তব্য আমি শুনেছি। দক্ষিণের মেয়র যেটি বলেছেন, মন্ত্রীর মর্যাদায় তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রীর মর্যাদা থাকলে নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আছে। সেই বিধিনিষেধের কথাই তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।’
এর আগে, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘সরকার জানে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। জনগণ যদি একবার জেগে ওঠে, তাহলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’
সেলিমা রহমানের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই সরকারের পতনের কথা শুনে আসছি। সরকার পরিবর্তনের একটিই পথ, সেটি হচ্ছে নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাচনে জনগণ বর্তমান সরকারকে সমর্থন না জানালে স্বাভাবিকভাবেই আমরা সরকারে থাকবো না। এছাড়া অন্য পথ তো নেই। সেলিমা রহমানের এই কথা আমরা গত ১১ বছর ধরেই শুনে আসছি।’
নতুন বছরে বিরোধী দলকে ‘স্পেস’ দেওয়া প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সমাজেই বসবাস করি। এখানে বিরোধী দল সবসময় তাদের মত প্রকাশ, প্রতিবাদ করা, সাংবিধানিকভাবে যে অধিকার, সেই অধিকার প্রয়োগ করছে। এখানে কাউকে অধিকার দেওয়ার বিষয় নেই। বিরোধী দল সবসময়ই সংসদে ও সংসদের বাইরে তাদের মত প্রকাশ করছে। কারণ, মাল্টিপার্টি ডেমোক্র্যাসিতে আমরা বিশ্বাস করি। সেই অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হচ্ছে।’ সুতরাং অধিকার দেওয়া বা না দেওয়ার প্রশ্ন অবান্তর বলেও তিনি মন্তব্য করেন।








