১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তেজগাঁও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের পরিবেশ এত সাজানো-গোছানো থাকার কথা নয়। সেদিন যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে এসে পৌঁছান বঙ্গবন্ধু। তেজগাঁও বিমানবন্দরেই তাকে বহন করা বিশেষ বিমান থেকে নামেন তিনি। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে জনতার উচ্ছ্বাস আর তাদের ‘শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ স্লোগানে মুখরিত ছিল তেজগাঁও বিমানবন্দর। তেজগাঁওয়ে এখন আর বিমানবন্দর নেই। কিন্তু আজও সেখানে ছিল ‘শেখ মুজিব’ ‘শেখ মুজিব’ বলে গগনবিদারী স্লোগান। সবকিছু ছিল সাজানো-গোছানো। লেজারের প্রতিচ্ছবিতে বঙ্গবন্ধুও সেখানে ‘উপস্থিত’ ছিলেন। ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা, বঙ্গবন্ধুর আরেক মেয়ে শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, দেশের বিশিষ্টরা নাগরিক, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দর্শকরা। হাজারো জনতার সামনেই এদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা এবং লোগো উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) উদ্বোধন হলো বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের তথা মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা। বিশাল ফাঁকা মাঠে আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠানের। সাজানো-গোছানো-সুসজ্জিত অনুষ্ঠান ছিল এটি। মাঠের পশ্চিম দিকে ছিল রেজিস্ট্রেশন করে আসা ১০ হাজার দর্শক। বামদিকে বসেছেন দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি। পূর্বদিকের ভবনে একটি বিশাল মনিটর। আর এর ঠিক মাঝখানে লালগালিচা দিয়ে করা হয় মুক্তমঞ্চ। যেখানে বোন শেখ রেহানাকে ডানপাশে আর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে বাম পাশে নিয়ে ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি সেখানেই মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন করেন। তিনটি বিশাল মনিটরে পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখানো হয়।
ক্ষণগণনার অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর। তিনি উপস্থিত হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু যে বিমানে করে দেশে এসেছিলেন তার আদলে একটি ডামি বিমান ওড়ানো হয়। সেটি রানওয়ে পেরিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছায় চারটা ৩৮ মিনিটে। সি১৩০জে বিমানটি থামার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিম দিক থেকে একদল জনতা ‘তোমার নেতা, আমার নেতা, শেখ মুজিব মুজিব’, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে বিমানের কাছে যায়। এ সময় বিমানের প্রবেশপথের পাশেই লেজার রশ্মি দিয়ে তৈরি করা হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। উচ্ছ্বসিত জনতা বঙ্গবন্ধুকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এই প্রতিকৃতিই একটি আলোর প্রতিচ্ছবি হয়ে লালগালিচা বিছানো পথ ধরে মঞ্চে পৌঁছায়। সেই মঞ্চে এসেই ল্যাপটপে ক্লিক করে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। উদ্বোধন শেষে নিজেই ধরেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। তার সঙ্গে গলা মেলান বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং উপস্থিত দর্শকরা। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উড়তে থাকে পায়রা এবং রঙিন বেলুন।
ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য ব্যক্তিরাও। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে মুজিববর্ষের লোগো তুলে দেন প্রফেসর এমিরেটাস রফিকুল ইসলাম ও ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, কবি নির্মলেন্দু গুণ, শিল্পী হাশেম খান, অভিনয় শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু








