সীমান্ত এলাকায় পুরনো ও পরিত্যক্ত বিওপিগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিবি। প্রাথমিকভাবে চারটি বিওপি যাচাই-বাছাই করে স্কুলের জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব স্কুলের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা নিকেতন’।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতরে বাহিনীর পরিচালক (পরিকল্পনা) লে. ক. সৈয়দ আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরনো কিছু এলাকার বিওপিগুলো সীমান্ত থেকে একটু ভেতরে। দেশ উন্নত হওয়ায় এখন বাজারঘাট ও স্থাপনা হচ্ছে সীমান্ত কেন্দ্রিক। বিওপিগুলো ভেতরে হওয়া আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে কিছুটা সমস্যা হয়। তাই আমরা বিওপিগুলো সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছি। সরকার এটি অনুমোদন দিয়েছে। সারাদেশে আমাদের ১২৬টি বিওপি আছে।’
সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কিছু বিওপি চিহ্নিত করেছি, যেগুলো পরিত্যক্ত। এসব বিওপিতে স্কুল করা হবে। সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। সীমান্তের মানুষ দরিদ্র হওয়ায় তারা চোরাকারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাদের শিক্ষিত করতে পারলে এই অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। তাই আমরা বিওপিতে স্কুল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
প্রাথমিকভাবে চারটি বিওপিতে স্কুল করা হবে, সেগুলো হলো- ঠাকুরগাঁওয়ের মুন্ডুমালা, সুনামগঞ্জের নবীনগর, কুমিল্লা শিবের বাজার এবং ফেনীর শালধর বিওপি। এছাড়াও আরও ছয়টি রয়েছে। যেগুলোতে ধীরে ধীরে স্কুল করা হবে। এসব স্কুলে দিনে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করবে, রাতে বয়স্কদের সচেতন করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক পাঠদান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা নিকেতনে বয়স্কদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর তাদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এ সব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গেও কথা হয়েছে বিজিবি। বিজিবির ধারণা সীমান্তে দরিদ্র মানুষকে সাবলম্বী করতে পারলে চোরাচালান কমে আসবে।’








