করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নিত্যপণ্যের প্রয়োজনীয় দোকানপাট খোলা এবং জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে আগের নির্দেশনাই বহাল রাখা হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায়ও রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না যেতে জনসাধারণকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসাধারণের চলাচল সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। করোনা পরিস্থিতির শুরুতে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকলেও গত ৫ মে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে দোকানপাট, শপিংমল ও মার্কেট বিকাল চারটার মধ্যে বন্ধ করে দিতে বলা হয়।
গত ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে চিঠি দিয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক শাখা থেকে পুলিশের আইজি, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসারের মহাপরিচালককে ওই চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে হাট-বাজার, ব্যবসাকেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে সীমিত আকারে পরিচালনার কথা বলা হয়। এক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে বলা হয়। জনসাধারণের চলাচল সময় সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন যেমন- ক্রয়-বিক্রয়, ওষুধ, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন কিংবা সৎকার ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না আসার কথা বলা হয়।
তবে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী, ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন, গণমাধ্যম, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটি ও চলাচলের নির্দেশনার বাইরে থাকবেন।
জনসাধারণ এবং যান চলাচলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। রমজান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দোকানপাটে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকারের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।








