(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)
বিদেশে চিকিৎসা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেদিন দেশে ফিরবেন সেদিন বিমানবন্দর এলাকায় তাকে সুশৃঙ্খল সংবর্ধনা জানানোর অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ও ঢাকা শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফা। ১৪ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে ঢাকা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বাসসের খবরে বলা হয়, এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা জানি বিরাট সংখ্যক লোক তাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য বিমানবন্দরে উপস্থিত হবেন। অত্যধিক ভিড়ে নেতার যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকেও আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।’ বঙ্গবন্ধুর আগমনের সময় বিমানবন্দরে অসুবিধা সৃষ্টি না করার জন্য বিবৃতিতে তারা জনগণের প্রতি আবেদন জানান। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নেতাকে দেখার জন্য জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
‘বৃহত্তর বাংলা’ স্লোগানের উদ্দেশ্য ভারতের বন্ধুত্ব নষ্ট করা
আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ দৈনিক বাংলার প্রতিবেদককে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, বৃহত্তর বাংলা স্লোগানের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বে ফাটল ধরানো এবং নবীন রাষ্ট্র বাংলাদেশকে বন্ধুহীন ও দুর্বল করা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের হোতা চীন ও আমেরিকা। তিনি বলেন, আমরা বন্ধুহীন ও দুর্বল হলে ফায়দা লুটবে তারা। প্রতিবিপ্লবের সম্ভাবনা সম্পর্কে মওলানা ভাসানী যেসব মন্তব্য করেছেন সে সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদের অভিমত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী কিছু সংখ্যক লোক দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারেন, তবে তাদের দিয়ে প্রতিবিপ্লব ঘটাতে পারবেন না।
পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের বেঁচে থাকা ক্রমে কঠিন হচ্ছে
করাচিতে আটকে পড়া বাঙালিরা তাদের জন্য বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত তিনটি লঙ্গরখানায় খাবার খেয়ে বেঁচে আছেন। সদ্য পালিয়ে আসা স্টেট ব্যাংকের একজন কর্মচারীর কাছ থেকে এ খবর জানা যায়। এসব লঙ্গরখানায় কেবল কপর্দকহীন বাঙালি শ্রমিকদের খাবার দেওয়া হচ্ছে। এসব শ্রমিকের সংখ্যা কমপক্ষে ২৫ হাজার কিন্তু তারা কতদিন এভাবে চালাবে? কারণ, এদের ক্ষমতা একেবারে সীমিত। সাবেক পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের অফিসার আব্দুল মজিদ খান এ কথা জানিয়েছেন। মজিদ খান বলেন, বাঙালিরা সাহায্যের জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু তাদের আবেদন অরণ্যেরোদন হয়েছে। পাকিস্তান সরকার তাদের যেকোনও ধরনের ফান্ড সংগ্রহও নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ছাঁটাই করা বাঙালি কর্মচারীদের যে কেবল সকল ভাতা বন্ধ করা হয়েছে তা নয়, তাদের ফান্ড থেকে টাকা তুলতেও দেওয়া হচ্ছে না। সাবেক পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের অপর একজন কর্মচারী ফখরুল আলম একই ধরনের বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না এলে এসব বাঙালির বাঁচার কোনও আশা নেই।
পাকিস্তানে বাঙালিদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তার বর্ণনা দিয়ে তারা বলেন, পথে-ঘাটে বাঙালিদের দেখলেই পাকিস্তানিরা ঠাট্টা-মশকরা করে।
কালোবাজারিরা আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে
পল্টনের জনসভায় অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানসহ অন্য নেতারা চোরাচালানকারী ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা করলেও ঢাকার বাজার থেকে আবার মালপত্র উধাও হতে শুরু করে।








