(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ৬ অক্টোবরের ঘটনা।)
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির মাধ্যমে ভারত থেকে বিমানযোগে আমদানি করা সামগ্রী কেনাবেচায় মূল্য হ্রাস করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ১৯৭২ সালের ৬ অক্টোবর তিনি এ নির্দেশ দেন।
টিসিবি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বঙ্গবন্ধু নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের সুবিধার্থে কাপড় আমদানি বাবদ বিমান ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন। ফলে ৭ অক্টোবর থেকে ‘সুন্দরী’ ও ‘সোহানী’ শাড়ি প্রতিজোড়া তিন টাকা ২৩ পয়সা এবং তিন টাকা ১৮ পয়সার কম মূল্যে জনসাধারণের জন্য বিক্রি করা হবে। উল্লেখ্য, খোলা বাজারে প্রতিজোড়া ‘সুন্দরী’ ও ‘সোহানী’ শাড়ি যথাক্রমে ২৭ টাকা ৮৫ পয়সা ও ২৯ টাকা ৪০ পয়সায় বিক্রি করা হতো।
সেনাবাহিনীকে যেকোনও ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান
আইন প্রয়োগকারী যেসব সংস্থা চোরাচালান প্রতিরোধকারী সংস্থা হিসেবে দেশের সীমান্ত এলাকায় কাজ করছে, তাদের সবাইকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংযুক্ত কমিটির অধীনে আনা হয়। ৬ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকে একটি সমন্বয় পরিষদ গঠন করা হয়। এই সমন্বয় পরিষদ চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সঠিকভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নান সমন্বয় পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
সংবাদে বলা হয়, উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাম্প্রতিক নির্দেশের আলোকে সীমান্তে চোরাচালানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের মাটি থেকে চোরাচালান চিরতরে নির্মূল করার অভিযানে বেসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করার জন্য বঙ্গবন্ধু নৌ ও সেনাবাহিনীকে সীমান্ত এলাকায় অবিলম্বে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে চোরাচালান বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনও ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়। পরে ভারতীয় হাইকমিশনার সুবিমল দত্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য চুক্তি
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনায় শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বৈঠকের সমাপ্তি দিনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী এম আর সিদ্দিকী জানান। ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বৈঠকে উভয় দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বাণিজ্যের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের মাল পরিবহন ও অর্থ লেনদেনের অসুবিধা দূর করা হয়েছে।’ এম আর সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মাছের রফতানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভারত মাছ আমদানির ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করবে এবং বাংলাদেশও মাছ রফতানির ওপর থেকে বিক্রয় কর তুলে নেবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘এর ফলে ভারতের জনগণ কম মূল্যে বাংলাদেশের মাছ খেতে পারবেন।’ ১৯৭৩ সালের মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনিময় বাণিজ্যের লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ থেকে পাট ও মাছ রফতানি ত্বরান্বিত করার পন্থা উদ্ভাবন সম্পর্কে উভয়পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ-ভারত আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ভারসাম্য আনার ওপর উভয় দেশের প্রতিনিধিদল গুরুত্ব আরোপ করে।








