‘যেকোনও ইস্যুতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন রাসেল’

মাহবুব হাসান
১৮ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৩৩আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২০:০০

শেখ রাসেল ও হাফিজুল হক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট সন্তান শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন আজ (১৮ অক্টোবর, রবিবার)। তিনি রাজধানী ঢাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৫ আগস্টের কালো রাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকদের বুলেটে শহীদ হন। স্কুলে তিনি কীভাবে সময় কাটাতেন তা জানতে বাংলা ট্রিবিউন কথা বলেছে তার এক সহপাঠীর সঙ্গে। হাফিজুল হক রুবেল নামের তার এই সহপাঠী বলেন, ‘অতোটুকু বয়সেই যেকোনও ইস্যুতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন শেখ রাসেল।’

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ফোনে কথা হয় রুবেলের সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শেখ রাসেলের সঙ্গে তিনি ক্লাস ফোর পর্যন্ত একসঙ্গে পড়েছেন। প্রায়ই শেখ রাসেল বন্ধুদের হাওয়াই মিঠাই কিনে খাওয়াতেন। নিজে খাওয়ার চেয়ে বন্ধুদের মধ্যে হাওয়াই মিঠাই বিলাতেই রাসেল বেশি আনন্দ পেতেন। আর সেজন্য স্কুলের বাইরে থেকে হাওয়াই মিঠাই কিনে আনতেন। আর সেটা বিলানোর সময় প্রচুর হই-হুল্লোড় হতো। বন্ধুরা সবাই আনন্দের সঙ্গে হাওয়াই মিঠাই খেতেন।

হাফিজুল হক রুবেল বলেন, শেখ রাসেল ফুটবল খেলতে পছন্দ করতেন। ক্লাসের ফাঁকে বা টিফিনে তারা ফুটবল খেলতেন। খেলার ক্ষেত্রে রাসেলের আগ্রহই ছিল বেশি। তিনি অন্যদের উৎসাহ দিতেন। আর ক্লাসে তার আচরণ ছিল শান্ত। পড়া ধরলে সবার আগে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতেন তিনি। আর উত্তর জানা না থাকলে চুপ করে থাকতেন।

শেখ রাসেলের এ সহপাঠী আরও জানান, রাষ্ট্রপতির ছেলে হলেও তিনি ছিলেন একদম নিরহংকারী এবং মিশুক প্রকৃতির। বন্ধুদের সঙ্গে খুব সহজ এবং সাবলীলভাবে মিশতেন। কখনও রাষ্ট্রপতির ছেলে হিসেবে বাড়তি অহংকার দেখাতেন না। এমনকি তার আচার-আচরণ বা কথায় এ বিষয়টা প্রকাশ পেতো না।

রুবেল আরও বলেন, রাসেল পড়াশোনায় ভালো ছিলেন। ভালো রেজাল্টও করতেন। তখন স্কুলের নিয়ম ছিল রেজাল্ট শিটে অভিভাবকের স্বাক্ষর নিয়ে আবার স্কুলে জমা দিতে হতো। কিন্তু শেখ রাসেলের রেজাল্ট শিট জমা দিতে মাঝে-মধ্যেই দেরি হতো। এজন্য সাধারণত তিন থেকে চারদিন সময় দেওয়া হতো। শিক্ষকেরা রেজাল্ট শিট জমা দিতে দেরির কারণ জানতে চাইলে রাসেল যথাযথ জবাব দিতেন। তার বাবা দেশে না থাকা বা রাষ্ট্রীয় কাজে ঢাকার বাইরে থাকার কারণেই এমন হতো বলে জানাতেন রাসেল।

বন্ধু রাসেল সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ক্লাস ফোরের স্মৃতি খুব বেশি মনে নেই। সেটা কারোই থাকার কথা না। তবে, শেখ রাসেলকে নিয়ে কিছু মনে আছে। কারণ, আমরা জানতাম সে রাষ্ট্রপতির ছেলে। কিন্তু তার মাঝে কখনও এ বিষয়ের ছাপ ছিল না। তিনি সবাইকে আপন করে নিতেন। সবার সঙ্গে কথা বলতেন। সবার সঙ্গে মিশতেন।

বর্তমানে চাকরিতে থাকা শেখ রাসেলের এই বন্ধু বলেন, কেউ ক্লাস ফোরে মৃত্যুবরণ করা সত্যিই দুঃখজনক। কেননা, একটা শিশু নিষ্পাপ থাকে। শেখ রাসেল ছিলেন তেমনই। কিন্তু এমন একটা শিশুকে খুন করা হয়েছে। আজ যদি সে বেঁচে থাকতো, আমাদের বয়সী হতো। আমরা হয়তো তার কাছ থেকে দূরদর্শী এবং যোগ্য নেতৃত্ব পেতাম। তিনি বাংলাদেশের সন্মান বৃদ্ধি করতেন। কিন্তু আফসোস খুনিরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। বাবা-মা ও ভাই-ভাবিদের সঙ্গে তাকেও হত্যা করা হয়েছে।

শেখ রাসেলের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান হাফিজুল হক রুবেল। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের খুনিদের অনেকের ফাঁসি হয়েছে। কিন্তু এখনও কিছু খুনি বিদেশে পালিয়ে রয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের সাবেক এ ছাত্র বলেন, খুনিদের শাস্তি হলে শেখ রাসেলকে হয়তো ফিরে পাওয়া যাবে না, কিন্তু তার আত্মার শান্তি হবে। আজ যখন ভাবি, আমরা আছি, সে নেই, খুব কষ্ট হয়।

তিনি বলেন, খুনিদের ফাঁসি হলে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হবে, যে কেউ নিরপরাধদের খুন করে রেহাই পায়নি। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যাকারীদের বিচার করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রুবেল।

/টিটি/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী