(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ৬ নভেম্বরের ঘটনা।)
সোভিয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সুদৃঢ় হবে সেই কামনাকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫৫তম মহান অক্টোবর বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে সোভিয়েত সরকার ও জনগণের কাছে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। ১৯৭২ সালের ৬ নভেম্বর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরিত এক বাণীতে বঙ্গবন্ধু বলেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস উভয় দেশের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সমঝোতা অব্যাহত থাকবে এবং আরও শক্তিশালী হবে। কোসিগিনের কাছে পাঠানো বাণীতে যা ছিল সেখানে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এবং নিজের পক্ষ থেকে আমি ৫৫তম মহান অক্টোবর বিপ্লব বার্ষিকীতে আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে আপনার সরকার জনগণকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই দিনে প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ অভ্যুদয় ঘটে। যা শান্তিকামী মানুষকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে। আমি এই মহান দিনে আমাদের মুক্তি সংগ্রামে সোভিয়েত সরকার ও জনগণের বিপুল সমর্থন এবং আমাদের অর্থনীতি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে রুশ সরকারের প্রদত্ত সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আপনার ব্যক্তিগত সুখ ও স্বাস্থ্য কামনা করছি এবং সাথে সাথে কামনা করি সোভিয়েত জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি।
রাষ্ট্রপ্রধানও বাণী দেন
পঞ্চান্নতম মহান অক্টোবর বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সোভিয়েত সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। বাসস জানাচ্ছে রাষ্ট্রপ্রধান রুশ বিপ্লব বার্ষিকীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তার সরকার ও জনগণের প্রদত্ত মূল্যবান সমর্থন ও সাহায্যের জন্য সেই মহান দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রাষ্ট্রপ্রধান জনাব আবু সাঈদ চৌধুরী উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সমঝোতার সুযোগ ও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বঙ্গবন্ধুর কাছে প্রিন্স আগা খানের শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংক্রান্ত জাতিসংঘের হাইকমিশনার আগা খান বাণী পাঠান। ঈদের শুভেচ্ছা হিসেবে তিনি এই বার্তা পাঠান। বাসস জানাচ্ছে ৬ নভেম্বর এক বাণীতে প্রিন্স আগা খান পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
কলম্বো পরিকল্পনায় বাংলাদেশের সদস্য লাভ
বাংলাদেশ ও ফিজিকে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে কলম্বো পরিকল্পনা সদস্যপদ দান করা হয়। এই দুটি নয়া রাষ্ট্র পরিকল্পনার সদস্য হলো। কলম্বো পরিকল্পনা সংস্থার উপদেষ্টা কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে। এই দুটি দেশসহ সংস্থার সদস্য এখন ২৬। প্রথমদিকে দক্ষিণ ভিয়েতনামী প্রতিনিধিরা পদ্ধতিগত প্রশ্ন নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করেন। কিন্তু অন্য বহুসংখ্যক দেশ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়।
সেদিনও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের খবর ছিল পত্রিকায়
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে ১৯৭২ সালের ৭ নভেম্বরের পত্রিকায় খবর প্রকাশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়াও একইসঙ্গে সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসলে এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধি সভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া বেশকয়েকটি অঙ্গরাজ্য গভর্নর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট নিক্সনের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে ম্যাকগভার্ন নির্বাচনে অবতীর্ণ হন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা সেই সময় পর্যন্ত প্রায় সর্বসম্মতভাবে বলছেন যে আবারও প্রেসিডেন্ট নিক্সন নির্বাচিত হবেন। সেবছর নির্বাচনে ১৪ কোটি ভোটারের অংশগ্রহণ করার কথা জানানো হয়।








