লঘু অপরাধে কি সাধারণ ক্ষমা হবে?

উদিসা ইসলাম
১০ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:০০ আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:০৯

লঘু অপরাধে কি সাধারণ ক্ষমা হবে? (বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১০ ডিসেম্বরের ঘটনা।)

১৯৭২ সালে প্রথম বিজয় দিবস উদযাপন নিয়ে নানা আয়োজন যখন চলছে তখন ১১ ডিসেম্বরের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, ‘সাধারণ ক্ষমার সম্ভাবনা’। বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে পারেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যারা দখলদার বাহিনীর সাথে সক্রিয় সহযোগিতা করেছিল এবং হত্যা লুণ্ঠন ও নারী নির্যাতনের অংশ নিয়েছিলেন এবং যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তারা ব্যতীত লঘু অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সকলের প্রতি সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়টি বঙ্গবন্ধু সরকারের সবচেয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। যদিও একইসঙ্গে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্বীকৃতির বিষয়টির তখনও সমাধান হয়নি।



লঘু অপরাধে কি সাধারণ ক্ষমা হবে? আটক বাঙালিদের প্রতি বিশ্বদরবারের দৃষ্টি আকর্ষণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পুনরুল্লেখ করে বলেন যে, পাকিস্তানের যেসব নাগরিক দেশে ফিরে যেতে উদগ্রীব, সরকার তাদের প্রত্যাবর্তন করতে দিতে প্রস্তুত। এটা তাদের মৌলিক নাগরিক অধিকার। অনুরূপভাবে পাকিস্তানও আটক বাঙালিদের তাদের নিজ দেশ বাংলাদেশে ফিরে আসার মৌলিক মানবিক অধিকার রক্ষা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আণবিক শক্তি কেন্দ্রের মিলনায়তনে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের সকল প্রকার সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখার এবং বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা উল্লেখ করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীন আর ভেটো দেবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলেন যে বাংলাদেশ মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কতগুলো মৌল নীতিবোধের বিশ্বাসী এবং কোনও মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তাদের দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে দিতে রাজি নয়। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে দিতে পাকিস্তান রাজি নয় বলে জানিয়েছে। তারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিরাপরাধ মানুষগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে দর কষাকষি করছে। কিন্তু আমরা কোনোভাবে স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে দরকষাকষিতে রাজি নই। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশে বসবাসকারী পাকিস্তানিরা দেশে ফিরে যেতে উদগ্রীব। তাদের দেশে ফিরে যাবার অধিকার পুরোপুরি রয়েছে এবং আমরা তাদের সে অধিকার রক্ষা করতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের সংকীর্ণ নীতির পরিবর্তন করে বাংলাদেশের মতো একটি মনোভাব নিয়ে এই প্রস্তাবে সাড়া দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

লঘু অপরাধে কি সাধারণ ক্ষমা হবে? অবিলম্বে স্বীকৃতি দিন


লাহোরে বুদ্ধিজীবীদের এক বিরাট সমাবেশে উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অবিলম্বে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের দাবি জানানো হয়। সমাবেশে গৃহীত এক প্রস্তাবে এই দুই দেশের জনগণের মধ্যে মৈত্রী জোরদার করার জন্য সক্রিয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।
বেলুচিস্তানের গভর্নর গাউস বেজেন্জো এইদিনে করাচিতে বলেন যে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান, ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং ছোট ছোট প্রদেশের জনগণের ওপর শোষণ বন্ধ করার মধ্যেই পাকিস্তানের অস্তিত্বের প্রশ্ন নিহিত। তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে নিজেদের সমস্যাদি আপোষে নিষ্পত্তি করার পর উপমহাদেশকে অসামরিকীকৃত অঞ্চল বলে ঘোষণা করা উচিত।

লঘু অপরাধে কি সাধারণ ক্ষমা হবে?

শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী
১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বাংলা নির্যাতিত নিপীড়িত মানবতার মুখপত্র দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী সম্পাদক শহীদ সিরাজুদ্দীন প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এক বছর আগে আলবদর বাহিনী বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী হত্যার যে নৃশংস অভিযান চালিয়েছিল, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন তার প্রথম শিকার। দিবসকে ঘিরে আয়োজিত বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে শহীদ পত্নী বলেছিলেন, আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হারিয়েছি। আমার সন্তানদের মুখের হাসির মিলিয়ে গেছে। এজন্য আজ দুঃখ করি না। কারণ বাংলাদেশের সাত কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যে স্বাধীনতার প্রয়োজন ছিল আমার স্বামী সেই স্বাধীনতার কথা ভাবতে গিয়ে, সেই স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে, সেই স্বাধীনতার কথা লিখতে গিয়ে পাকবাহিনীর দোসরদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছেন। আমার স্বামীর জীবন ব্যর্থ হয়নি। স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই আমার শান্তি, এই আমার সান্ত্বনা।

/এফএ/
সম্পর্কিত
মুজিববর্ষ উদযাপনে ব্যয় ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
মুজিব বর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের খরচ ১২৬১ কোটি
ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে সাতক্ষীরার ৬ উপজেলা, প্রস্তুত ৩৬৪টি ঘর
সর্বশেষ খবর
সৌরপ্রযুক্তি রফতানিতে লাগাম টানতে চীনের নতুন উদ্যোগ
সৌরপ্রযুক্তি রফতানিতে লাগাম টানতে চীনের নতুন উদ্যোগ
আমিনবাজারে সড়কের দুই পাশে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
আমিনবাজারে সড়কের দুই পাশে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
ইশরাকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? যা বললেন ডিবি প্রধান
ইশরাকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? যা বললেন ডিবি প্রধান
প্রতিদিন একই কাঁধে ব্যাগ? অজান্তেই বাড়ছে শরীরের সমস্যা
প্রতিদিন একই কাঁধে ব্যাগ? অজান্তেই বাড়ছে শরীরের সমস্যা
সর্বাধিক পঠিত
আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী
আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী
এখন থেকে লাগেজ লাইভ দেখতে পারবেন শাহজালালের যাত্রীরা
এখন থেকে লাগেজ লাইভ দেখতে পারবেন শাহজালালের যাত্রীরা
সৌদিতে দুই বাংলাদেশিকে শাস্তি: যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সৌদিতে দুই বাংলাদেশিকে শাস্তি: যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
‘আমির হামজার মাহফিলে রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক বক্তব্য যেন দেওয়া না হয়’
‘আমির হামজার মাহফিলে রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক বক্তব্য যেন দেওয়া না হয়’
কক্সবাজারে নিহত ৬ জনই একই পরিবারের
কক্সবাজারে নিহত ৬ জনই একই পরিবারের