১৯৭১ সালের ১২ মার্চ ছিল অসহযোগ আন্দোলনের পঞ্চম দিন। বঙ্গবন্ধুর আহবানে অসহযোগ আন্দোলনের পঞ্চম দিনও শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হয়। এইদিনে লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী বল প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক। তবে তারা এও বলে, শক্তি প্রয়োগ নিষ্ফল ও বিপজ্জনক হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গকে স্বদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সুফিয়া কামালের সভাপতিত্বে সারা আলীর তোপখানা রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত মহিলা পরিষদের এক সভায় পাড়ায় পাড়ায় মহিলা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
নতুন আন্দোলনে বিশ্বের বিস্ময়
বিশ্বের ইতিহাসে এমন অভূতপূর্ব সফল অসহযোগ আন্দোলনের নজির নেই। আন্দোলনের ফলে জনসাধারণ যেন অযথা কষ্ট ভোগ না করে তার জন্য বঙ্গবন্ধু যেসব বিধি-নিষেধ নির্দেশ দেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়। সমগ্র দিনব্যাপী এক অনন্য ব্যক্তিত্বের নির্দেশে সারাদেশে গণআন্দোলনের নতুন ইতিহাস ও দিগন্ত সৃষ্টি হয়।
যে আমলাতান্ত্রিক সিএসপিরা পাকিস্তানের শাসক ও শোষকের প্রতিনিধিত্ব করতো তাদের একটি অংশ এদিন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের গণআন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। এ ছাড়া একই দিন সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত সমন্বয় পরিষদ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পালনের ব্যাপারে শপথ গ্রহণ করে। বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে তারা এক সভায় মিলিত হয়ে চাকরি থেকে বিরত থাকার প্রতি পুনরায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। অপর এক প্রস্তাবে ৬ মার্চ ষড়যন্ত্রের প্রধান হোতা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার পূর্ব বাংলার বিপ্লবী জনতা ও গণবিপ্লব সম্পর্কে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার ও এই ভাষণে সত্যের অপলাপ থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় ও তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সড়কে প্রতিরোধ ছিল
পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন সড়কে মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা দেন। এ ছাড়া মগবাজারে ছাত্র জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্রনেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন বৃহৎ ব্যবসায়ী ও দ্রব্যমূল্য না বাড়ানোর জন্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ন্যাপের ওয়ার্কিং কমিটির এক সভায় বাংলাদেশের শোষিত শ্রেণিগুলোর মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানানো হয়। অপরদিকে এই দিনে ময়মনসিংহ থেকে মাওলানা ভাসানী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আস্থা রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, জনগণ কাউকে আপস করতে দেবে না।








