ঝড়ে বিধ্বস্ত দেশ, খাদ্য সংকট চরমে

উদিসা ইসলাম
২২ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০০ আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২২ এপ্রিলের ঘটনা।)

১৯৭৩ সালের এপ্রিলজুড়ে একের পর এক টর্নেডো, কালবৈশাখী ঝড়ে বিপর্যস্ত দেশের নানা অঞ্চল। বরিশাল, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজশাহীসহ বেশকিছু এলাকার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেশ কয়েকটি অঞ্চল সফর করেন। কারও যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, এবং পুনর্বাসন যেন দ্রুত করা হয় সে নির্দেশনাও দেন তিনি।

ফরিদপুর জেলার হাট কৃষ্ণপুর আলিয়াবাদ ও ভাঙ্গা থানার ওপর দিয়ে আবার কালবৈশাখী বয়ে যায়। ১৩ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের শিকার এলাকার জনগণের দুঃখদুর্দশা এতে আরও বেড়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়।

বিপিএন-এর খবরে প্রকাশ, ঘূর্ণিঝড় দুর্গত জনগণের আশ্রয়ের জন্য স্থাপিত অনেক কাঁচাঘর উড়ে গেছে। এদিকে টাঙ্গাইলে প্রচণ্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, টাঙ্গাইল থেকে চার মাইল দূরে কয়েকটি গ্রামের লোক মারা গেছে। এনার খবরে জানানো হয়, টাঙ্গাইল জেলার সদর দফতরের সঙ্গে টেলিফোন যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

image1 (6) এদিকে ঢাকার মানিকগঞ্জ মহাকুমার দুটি, ঢাকা সদর দক্ষিণ মহকুমার একটি থানায় যে প্রবল ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে কয়েকদিন আগে, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেটাকে মারাত্মক বিপর্যয় বলে অভিহিত করেন।

১৯৭৩ সালে একটার পর একটা দুর্যোগে প্রশাসন ব্যস্ততম সময় কাটায়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। টর্নেডোর ধ্বংস ও মৃত্যুর রূপ দেখে হতচকিত বিস্ময়বিহ্বল বঙ্গবন্ধু শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সামগ্রিকভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বিতরণের নির্দেশ দেন। দুর্গতদের মধ্যে বিতরণের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ সহায়তার ঘোষণা করেন তিনি এবং অবিলম্বে ছিন্নমূল মানুষগুলোর পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন।

ও্প্রব্য়োব্জব্নেব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব্ব পরিবার পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক হবে

আশঙ্কাজনকহারে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী। জনসাধারণের প্রতি পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে আইন করার কথাও বলেন। রমনায় একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। কার্যত ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা উন্নয়ন তৎপরতার সমস্ত সুফল খেয়ে ফেলছে।’

তিনি আরও বলেন, সরকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিপদ সম্পর্কে সচেতন এবং অগ্রাধিকার দিয়ে সমস্যাটির মোকাবেলা করতে যাচ্ছে।

খাদ্য সমস্যার সংকট সমাধানে তাগাদা

সরকারি হিসাবমতে, বাংলাদেশের মাসে খাদ্যের প্রয়োজন ২৫ লক্ষ টন। এ পর্যন্ত ১৮ লক্ষ টন খাদ্য সংগৃহীত হয়েছে বা সংগ্রহের আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে। ঘাটতি ৭ লক্ষ টন। এই ঘাটতি পূরণের জন্য চেষ্টা কতোটুকু করা হচ্ছে তা সরকার মহল বলতে পারবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

১৮ লক্ষ টন খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে চালের পরিমাণ মাত্র দেড় লক্ষ টন, খাদ্যমন্ত্রী ফণিভূষণ মজুমদার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাজারে চালের অভাব অত্যন্ত প্রকট যে নিকট ভবিষ্যতে চাল আমদানি করা কতটুকু সম্ভব হবে তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়।

ঝড়ে বিধ্বস্ত দেশ, খাদ্য সংকট চরমে বঙ্গবন্ধুকে পদক দেওয়া হবে

সেবছর ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে প্রদত্ত আন্তর্জাতিক জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদান করা হবে জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় তিন দিনব্যাপী এক শান্তি পরিষদের সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। সেখানে তাকে সম্বর্ধনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

 

/এফএ/
সম্পর্কিত
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি নিষিদ্ধ নয়, তবে চাপ কেন?
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ নয়: শোরুমে হামলার প্রতিবাদ ইউপিএলের
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি বন্ধের চাপ, ইউপিএলের দুই কর্মীকে আটকের পর মুক্তি
সর্বশেষ খবর
ইরাক প্রবাসীদের জন্য সুখবর
ইরাক প্রবাসীদের জন্য সুখবর
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকায় ১৬ হাজার পুলিশ: ডিএমপি
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকায় ১৬ হাজার পুলিশ: ডিএমপি
কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে মানুষের ঢল, ভক্তদের আহ্বান ‘আবার দেখা হবে’
কক্সবাজার সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে মানুষের ঢল, ভক্তদের আহ্বান ‘আবার দেখা হবে’
একদিনে হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০১০
একদিনে হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০১০
সর্বাধিক পঠিত
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
পে-স্কেল: বেতন-ভাতা নির্ধারণে প্রস্তুতি কতদূর
পে-স্কেল: বেতন-ভাতা নির্ধারণে প্রস্তুতি কতদূর
স্থানীয় নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন তারেক রহমান
স্থানীয় নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন তারেক রহমান