জেনেভায় রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু

উদিসা ইসলাম
১২ আগস্ট ২০২১, ০৮:০০আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১২ আগস্টের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইউরোপে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রতি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রসার, বিশেষ করে রফতানি বৃদ্ধি তীব্রতর করার আহ্বান জানান। তিনি দূতদের প্রতি অর্থনৈতিক তৎপরতার ওপর গুরুত্ব দিতে বলেন। জাতীয় পুনর্গঠনে প্রবাসীদের সঙ্গে তাদের (কূটনীতিকদের) তৎপরতায় মিল থাকতে হবে বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বাইরে দেশের মানুষের সমস্যা, নানা আকাঙ্ক্ষা সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে এবং দেশের সমস্যা সম্পর্কে তাদের সংযোগ রাখতে হবে।’ তিনি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপ্তি দিনে ভাষণ দিচ্ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের প্রতি শান্তি ও জাতীয় স্বাধীনতাকে ফলপ্রসূ করার পক্ষে তাদের প্রয়াস আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের মুক্ত করার পক্ষে যত বেশি সম্ভব জনমত গঠনে আত্মনিয়োগের নির্দেশও দেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ করে এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ঐকান্তিক আগ্রহ প্রকাশের কথা সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি।’

বঙ্গবন্ধু কথা প্রসঙ্গে দেশের খাদ্য সমস্যা উল্লেখ করেন এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত পরিবার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পূর্বশর্ত।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১-এর যুদ্ধের পর উপমহাদেশে যে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধানে বাংলাদেশ সবিশেষ আগ্রহী।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের ১৯৫ জন বাদে বাকি যুদ্ধবন্দিদের ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। মানবতাবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও গণহত্যার জন্য ১৯৫ জনের বিচার করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবিক সমস্যার সমাধান চায় বলেই বাংলাদেশ-ভারত যুক্ত ঘোষণায় কোনও পূর্বশর্ত আরোপ করা হয়নি।’ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এ সম্মেলনে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের সাক্ষাৎদান করেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

দৈনিক বাংলা, ১৩ আগস্ট ১৯৭৩ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এবং বিশ্বের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির আলোকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেছেন। রাষ্ট্রীয় এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। তিনি রাষ্ট্রদূতের কাছে বাংলাদেশের প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনার রূপরেখা বর্ণনা করেন এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে তাদের সাহায্য কামনা করেন।

বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দিতে ব্যাপক আয়োজন

বঙ্গবন্ধু ১৮ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরবেন। এ সময় তাকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিসভা ও সংসদের সদস্যরা। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিকাল তিনটার মধ্যে সবাইকে বিমানবন্দরের রাস্তার দুই ধারে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সমবেত হতে বলা হয়েছে। অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সংবর্ধনা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ফিরছেন একটি সফল কূটনৈতিক অভিযান শেষে। সাফল্য তার যুগোস্লাভিয়ায়, সাফল্য কমনওয়েলথ সরকারপ্রধান সম্মেলনেও। ১৮ দিনের সফরের মধ্যে ৫ দিন তিনি দেশের হয়ে মন জয় করেছেন যুগোস্লাভিয়ার মানুষ ও নেতৃবৃন্দের। সেখান থেকে গেছেন অটোয়া। সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে বলিষ্ঠভাবে ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের বক্তব্য। নিরস্ত্রীকরণ ও শান্তির পক্ষে এবং সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ আর বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠস্বর ছিল প্রবল। যে কণ্ঠস্বরে বিশ্বের সংগ্রামী মানুষের হৃদয়ে আসন পেয়েছে বাংলাদেশ।

ডেইলি অবজারভার, ১৩ আগস্ট ১৯৭৩ জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিষয়ে সতর্ক না হলে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না।’ স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সমন্বিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের শিক্ষকদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো পরস্পর যুক্ত।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পরিবার-পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে না পারলে আগামীতে সমস্যায় জর্জরিত হতে হবে। পরিবার-পরিকল্পনা কার্যক্রম সফল হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বুনিয়াদ জোরদার হবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আব্দুল মান্নান তার ভাষণে ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে বিভিন্ন পরিবার-পরিকল্পনা কর্মীদের পদক্ষেপ এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
মুজিব বর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের খরচ ১২৬১ কোটি
ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে সাতক্ষীরার ৬ উপজেলা, প্রস্তুত ৩৬৪টি ঘর
‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে’
সর্বশেষ খবর
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থি ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম