তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমাবেশে বঙ্গবন্ধু

উদিসা ইসলাম
২৪ আগস্ট ২০২১, ০৮:০০আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২১, ২২:২৫

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৫ আগস্টের ঘটনা।)

এদিন সন্ধ্যায় গণভবনে বিভিন্ন বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রাপ্ত সম্পদ ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বর্তমানে ২২০৮টি বেতনের গ্রেড-কে কমিয়ে আনা হয়েছে। খবরে বলা হয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা মিছিল করে গণভবনে যান। কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে তাদের অভাব-অভিযোগের কথা তাঁকে জানান। এরপর তিনি কর্মচারীদের মাঝে বেরিয়ে আসেন। বঙ্গবন্ধুকে তাদের মাঝে পেয়ে কর্মচারীরা হর্ষধ্বনি দিতে থাকেন। বঙ্গবন্ধু দু’হাত তুলে তার উত্তর দেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সপ্তম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীরা যেন সেপ্টেম্বর মাস থেকে নতুন স্কেলে বেতন পান, তার জন্য সরকার চেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেকোনোভাবে বেতন কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হয়েছে।’

এদিন কর্মচারীদের নেতৃত্ব দেন এজিবি অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি এম এ রশিদ।

দিল্লি আলোচনায় আকস্মিক মোড় পরিবর্তন

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সেক্রেটারি এবং চলতি ভারত-পাকিস্তান আলোচনায় যোগদানকারী পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের দুই নম্বর সদস্য আগা শাহী সাহেব জরুরি পরামর্শ ও নির্দেশ নেওয়ার জন্য এদিন বিকালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানযোগে মুলতান যান। তিনি কথা বলে আবার ফিরে আসবেন। এদিকে দুই পক্ষ আবারও বৈঠকে মিলিত হবে। আজ কোনও বিরতি ছাড়াই ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে বৈঠক চলেছে। বৈঠকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় আলোচনা হয়েছে। পূর্ববর্তী খবরে প্রকাশ, আজকের আলোচনায় নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। উল্লেখ করা হয়, এদিন সকালে আলোচনার পর ভারতীয় দলের নেতা পিএম হাকসার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগা শাহী কিছু নিয়ে পাকিস্তান গেছেন এবং কিছু নিয়ে ফেরত আসতে পারেন।’ হাকসার ও আজিজ আহমেদ উভয়েই আলোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকার করেন। তারা আরও আলোচনা করতে পারেন, কিংবা আলোচনা ভাঙতে পারেন। পাকিস্তান উপমহাদেশের সমস্যাবলি কমানোর ব্যাপারে তাদের অবস্থানের বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা পালন করছে। যার অর্থ ঠিক বোঝা যাচ্ছে না বলে কূটনৈতিক মহল উল্লেখ করে। বলা হয়, তারা পরের দিন আবারও বসবেন। আজিজ আহমেদ বলেন, তিনি কিছু বলবেন না। পরের দিনের বৈঠক শেষে আবারও বৈঠকে বসবেন কিনা, প্রশ্নের জবাবে আজিজ আহমেদ যে হাসি দেন, তার উত্তর হ্যাঁ-না দুরকমই হতে পারে।

দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ আগস্ট ১৯৭৩

যুদ্ধাপরাধীদের প্রস্তাবিত বিচার স্থগিত করানোর উদ্দেশ্যে ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং বাংলাদেশকে সম্মত করানোর জন্য পাকিস্তান সব ধরনের হুমকি ও টোপ ফেলার নীতি গ্রহণ করেছে বলে এদিন খবরে প্রকাশ করা হয়। এনার বিশেষ সংবাদদাতা এক তারবার্তায় এটা জানান।

এরা রক্ষীবাহিনী নয়

এদিন বাংলাদেশ সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয় যে, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে লায়েক আলম চন্দন, গোপালপুর থানার গোপালপুর গ্রামের কাজী শামসুল হুদার ছেলে কাজী শামসুল এবং দিনাজপুর ফুলবাড়ী থানার মোহাম্মদ আবদুল আহাদের ছেলে মো. আনোয়ারুল হক এখন আর রক্ষীবাহিনীর চাকরিতে নিযুক্ত নেই। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, এদের মধ্যে কেউ কেউ কোনও কোনও ব্যক্তির কাছে এবং অফিসে গিয়ে এ রকম ধারণা দেন যে, তারা এখনও রক্ষীবাহিনীতে চাকরিরত রয়েছেন। এদের সঙ্গে কেউ কোনও ব্যাপারে জড়িত হয়ে পড়লে, তা নিজ দায়িত্বে করবেন বলে রক্ষীবাহিনীর জনসাধারণকে সতর্ক করে দেয়।

জয়নাল আবেদীনের সংবাদ সম্মেলন

২৪ আগস্ট বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের নেতৃত্বে গঠিত কেন্দ্রীয় শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদ বাংলাদেশের ৮০ হাজার শিক্ষকের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সাধারণ শিক্ষকরা আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। শিক্ষকদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করবার জন্য আমি নবগঠিত সংগ্রাম পরিষদের প্রতি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করছি।’

দৈনিক বাংলা, ২৫ আগস্ট ১৯৭৩ নিরপেক্ষতা আগের চেয়ে আরও জরুরি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘জোট নিরপেক্ষতার প্রয়োজনীয়তা অতীতে যেমন ছিল, বর্তমানে তেমনই রয়েছে।’ প্রকৃতপক্ষে তিনি মনে করেন যে, এই প্রয়োজনীয়তা অতীতের তুলনায় বর্তমানে আরও বেশি হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী যুগোস্লাভ বার্তা সংস্থার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। আগামী মাসে আলজিয়ার্সে জোটনিরপেক্ষ শীর্ষ বৈঠকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি আলোচিত হবে বা হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন কিনা, এই প্রশ্ন করা হলে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থনৈতিকভাবে অধিকতর সুবিধা আদায়ের প্রচেষ্টা এবং যথার্থ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সার্বিক নিরস্ত্রীকরণের কাজে জোট নিরপেক্ষ দেশগুলোর সহযোগিতা করা উচিত।’

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
মুজিব বর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের খরচ ১২৬১ কোটি
ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে সাতক্ষীরার ৬ উপজেলা, প্রস্তুত ৩৬৪টি ঘর
‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে’
সর্বশেষ খবর
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের