X
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

সারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিসি ও এসপিদের নির্দেশ

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:৪৬

দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। এর পরেও এক শ্রেণির অসাধু ডিলারের যোগসাজশে  কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছিল। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। সারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিঠি দিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের   সহযোগিতা নিয়ে অব্যাহতভাবে আগামী ১৫ দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অসাধু ডিলার ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সার পরিস্থিতি নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ও সার ডিলারদের সঙ্গে বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরিয়া ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ লাখ টন। জুলাই মাসে আমাদের মজুত ছিল ৭ লাখ ৬৯ হাজার টন। বর্তমানে মজুত আছে ৮ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন, গতবছর যা ছিল ৯ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন। এবছর সারের মজুত গত কয়েক বছরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। এটা আমাদের বোরো মৌসুম। এ সময়েই সারের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। আমরা সতর্ক ছিলাম এবং আছি। মজুত পরিস্থিতিতে মোটেই বিপর্যয় ঘটেনি। আমরা যেভাবে প্ল্যান করেছিলাম সেভাবেই এগোচ্ছি।’

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) সভাপতি কামরুল আশরাফ খানসহ কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কৃষিমন্ত্রী জানান, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সারের চাহিদা ৭ লাখ ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে মজুত আছে এক লাখ ৯২ হাজার টন। ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টন, মজুত আছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সারের চাহিদা ৭ লাখ ৫০ হাজার টন, মজুত আছে ৩ লাখ ১২ হাজার টন। পাইপলাইনে সরকারি ও বেসরকারি খাতে যে সার  রয়েছে, তাতে কম হওয়ার কোনও কারণ নেই। সার পরিবহন নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল, কিন্তু গত দুই-তিন দিনে এটা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। রেলওয়ের সঙ্গে আমরা একটি সমঝোতায় গিয়েছি, তাতে মনে হয় না পরিবহনে কোনও সমস্যা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘পাইপলাইনে আমাদের টিএসপি আছে ১ লাখ ৫০ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ৩০ হাজার টন, এমওপি ২ লাখ ২০ হাজার টন। আমি এটুকু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে চাই, মজুতে সামান্যতম সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। পাইপলাইনে যেটা রয়েছে, আগামী জুলাই পর্যন্ত পর্যাপ্ত সারের মজুত থাকবে এবং বেশিই থাকবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিপুল সারের ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করতে পারেনি। আসামের সরকার পত্রপত্রিকার মাধ্যমে চাষিদের বলেছে— তারা যেন সার কম ব্যবহার করেন এবং অর্গানিক সার ব্যবহার করেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি— আমাদের একদম ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা যেন সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেন। যেসব ডিলার ও বিক্রেতা বেশি দামে সার বিক্রি করবেন, তাদের তাৎক্ষণিক চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চিঠি দিয়ে ডিসি-এসপির সহযোগিতা নিয়ে অব্যাহতভাবে ১৫ দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবো। অসাধু ডিলার ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে যে, অনেক এলাকায় চাষিরা সার পাচ্ছেন না, প্রয়োজনীয় সারের ঘাটতি রয়েছে। সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি জানেন এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে। আমরা যেটা দেখলাম কোনও কোনও এলাকায় এলাকাভিত্তিক পরিবহন সমস্যার কারণে সার ঠিক মতো পৌঁছায়নি। ডিলার ও দোকানিরাও এ সুযোগটা নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে এবং পরিবহন খরচও বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কী এমন ঘটেছে যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে  ইউরিয়ার দাম তিনগুণ বেড়েছে। একটা আন্তর্জাতিক চক্র সুপরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে আমাদের শোষণ করছে। এ সুযোগ নিচ্ছে তারা। খুব সহজেই মানুষের মধ্যে গুজবটি ছড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম এত বেশি, কাজেই দাম বাড়তেই পারে। চাষিরা মনে করেছেন, কয়েকদিন পর হয়তো সার পাওয়া যাবে না, তাই তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এমনিতেও সার্বক্ষণিকভাবে আমরা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। আমাদের মাঠ কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া আছে। তারপরেও কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটে থাকে।’

/এসআই/এপিএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বিদ্যুতে রেশনিং চায় এফবিসিসিআই
বিদ্যুতে রেশনিং চায় এফবিসিসিআই
কমছে সব নদীর পানি
কমছে সব নদীর পানি
হেলে পড়া বিদ্যালয় ‘সোজা’ করার চেষ্টা
হেলে পড়া বিদ্যালয় ‘সোজা’ করার চেষ্টা
শীর্ষ পুরস্কার পেলো সিটি ব্যাংক
শীর্ষ পুরস্কার পেলো সিটি ব্যাংক
এ বিভাগের সর্বশেষ
ডাচ কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে ড. রাজ্জাকের বৈঠক  
ডাচ কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে ড. রাজ্জাকের বৈঠক  
রফতানি বাড়িয়ে কৃষিকে উন্নত করতে চাই: কৃষিমন্ত্রী
রফতানি বাড়িয়ে কৃষিকে উন্নত করতে চাই: কৃষিমন্ত্রী
পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিনামূল্যে বীজ-সার-কীটনাশক দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিনামূল্যে বীজ-সার-কীটনাশক দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
বন্যায় ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি আছে: কৃষিমন্ত্রী
বন্যায় ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি আছে: কৃষিমন্ত্রী