প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করবেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তিন দিনের সফরে বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভারত যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব।
সফরের প্রথম দিন চেন্নাইয়ে নতুন যে বাংলাদেশ উপ-কমিশন খোলা হয়েছে, সেটির অগ্রগতি দেখবেন পররাষ্ট্র সচিব। পরের দিন দিল্লি যাবেন তিনি।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘নিয়মিত বৈঠক করার বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলাম এবং গত ডিসেম্বরে ভারতের রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ঢাকা সফর করেছিলেন। ওই সময়ে কথা হয়েছিল, মাঝে মাঝে আমরা বৈঠক করবো এবং সেটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা হতে পারে, আবার ফ্লেক্সিবল এজেন্ডাও হতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘গত বছর ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফর করেছেন। সুতরাং, আমাদের দিক থেকে একটি সফর হতেই পারে। সেটার দিনক্ষণ এবং আলোচনার বিষয়গুলো কী হতে পারে সেটিও আলোচনায় থাকবে।’
দুই পররাষ্ট্র সচিবের মাঝে কোভিড, কানেক্টিভিটি, লাইন অব ক্রেডিটসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে বলে তিনি জানান। এছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে (জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন) কী আলোচনা হবে এবং কবে, সেটি নিয়েও আলোচনা করবেন পররাষ্ট্র সচিব।
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠক কবে হবে, সেটির দিন নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে তার আগে দুই পক্ষের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, সেটি পর্যালোচনা করা হবে। ইতোমধ্যে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে প্যারিসে দেখা হয়েছে।’
দুই মন্ত্রীর মাঝে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে বাণিজ্য সচিবদের বৈঠকসহ সাত থেকে আটটি বৈঠক বাকি আছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের মাঝে প্যারিসে বৈঠককালে এ বছরের প্রথমার্ধে আব্দুল মোমেনকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান জয়শংকর।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে অনেক মেকানিজম কার্যকর রয়েছে। এ জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়ে গেছে সেগুলো পর্যালোচনা করা যে কোনোটি শ্লথ হয়ে গেছে কিনা বা নতুন কিছু করা যায় কিনা। এছাড়া ভূ-রাজনৈতিক যে বিষয়গুলো আবর্তিত হচ্ছে, সেগুলো আলোচনা করার সুযোগ আছে।’
কোভিড সহযোগিতা
বাংলাদেশ ও ভারতে কোভিড প্রকোপ কমে আসছে এবং এ অবস্থায় যাতায়াত স্বাভাবিক করার বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘দুই দেশ আলাদাভাবে এবং আঞ্চলিকভাবে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ আকারে আলোচনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রচুর বাংলাদেশি চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে ভারতে যায়। সেখানে প্লেনে করে গেলে অনেক খরচ পড়ে যায়। দুই দেশের কাছে অনেকে অনুরোধ করেছে যে স্থলপথ যদি উন্মুক্ত করা হয় তবে অনেক সুবিধা হয়। ভারতও হয়তো এ সম্পর্কিত বিধিবিধান শিথিল করবে।’
এদিকে সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অন্য দেশগুলো বাংলাদেশকে যে সুবিধা দেবে, আমরাও তাদের একই সুবিধা দেবো। অর্থাৎ কোনও দেশ যদি সিদ্ধান্ত নেয়—যার দুই ডোজ নেওয়া আছে তার কোভিড টেস্ট করা লাগবে না ওই দেশের জন্য, তাহলে আমরাও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারি বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।
বাণিজ্য
কোভিডের সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য অনেক বেড়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মোমেন বলেন, ‘এটির একটি কারণ হতে পারে কোভিডের সময় অন্য দেশ থেকে আনা কিছুটা সমস্যা ছিল। আরেকটি কারণ হচ্ছে ট্রেনের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন। এটির সুফল আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘কোভিডের জন্য অনেক কিছু আটকে রয়েছে এবং সেগুলো পর্যালোচনা করবো, যাতে সেগুলো অচিরেই চালু করা যায়। আশা করি, এ ক্ষেত্রে কোভিড কোনও সমস্যা হবে না।’









