বৈশ্বিক ক্ষমতা কাঠামোতে ভারসাম্যগত পরিবর্তন আনছে ইউক্রেন যুদ্ধ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ মে ২০২২, ২০:১৬আপডেট : ১২ মে ২০২২, ২০:১৬

রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক ক্ষমতা কাঠামোতে ভারসাম্যগত পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ছোট দেশগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করছে। এর ফলে ওই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত দুই পক্ষসহ সবাইকে মূল্য দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিবাদমান উভয়পক্ষ মনে করছে যে তারা জিতবে। কিন্তু বাস্তবে উভয়পক্ষই হারবে।

ইউরোপে যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে জানিয়ে তিনি বলেন, গত দশকে তাদের সম্পর্কে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। এর প্রতিফলন আমরা গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেখলাম যখন রাশিয়া এবং চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব একসঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল। এই বিবৃতি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তিনি বলেন, ওই বিবৃতিতে পশ্চিমা দুনিয়ার দর্শনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল বিশ্বে এখন নতুন যুগ চলছে। এর মাধ্যমে তারা বলতে চেয়েছে আগে যে ক্ষমতার কাঠামো ছিল সেটি পুনঃবন্টন হয়েছে।

শহীদুল হক বলেন, বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে রাশিয়া এবং চীনের মধ্যে সম্পর্ক কোনও সীমাবদ্ধতা থাকবে না। যেকোনও খাতে তারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। ইন্দো প্যাসিফিক, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন বিষয়ে চীন ও রাশিয়ার মনোভাব একই ধরনের।

ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে দুটো উদ্যোগ ছিল। সেগুলো হচ্ছে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ইন্দো প্যাসিফিক ভিশন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এ দুটি উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে এবং এর ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিশেষ করে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো জন্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো ১৯৭১ এর পর বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে যখন পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ জন্ম হয়েছিল। ওই সময় রাশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৭১ সালের পরে রাশিয়ার ওপরে ভারতের নির্ভরশীলতা আরও অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। সেসময় বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য রাশিয়ানরা এগিয়ে আসে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে রেজুলেশনে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ ভোটদানে বিরত থাকার বড় একটি কারণ হচ্ছে তাদের সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্ক।

/এসএসজেড/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম