X
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২
১৯ আষাঢ় ১৪২৯
গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ-এর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব

আপডেট : ২০ মে ২০২২, ২৩:৩৭

বিশ্বব্যাপী সংহতি জোরদার করার এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে খাদ্য, বিদ্যুৎ ও আর্থিক সংকট মোকাবেলায় সু-সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ৪টি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন তিনি। খবর বাসস’র।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউক্রেনের যুদ্ধ এমন এক সময়ে এসেছে যখন বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারি থেকে উদ্ধার পেতে লড়াই করে চলেছে। এ যুদ্ধ ইতোমধ্যে নাজুক বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুতর চাপ যুক্ত করেছে।’

শুক্রবার (২০ মে) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ‘গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ (জিসিআরজি)-এর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কার্যকরভাবে সংকট মোকাবিলায় উন্নত অর্থনীতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্থিতিশীল করে তুলেছে। খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের স্বল্প সরবরাহ এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ এবং এসআইডিগুলো সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তাদের অবিলম্বে লক্ষ্যমাত্রা ভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে তিনি উন্নত দেশগুলো ও বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং আরও সহজলভ্য অর্থায়নের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মহামারির কারণে চলমান সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে এই গ্রুপটি গঠন করেছেন।

বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য চারটি প্রস্তাব রেখেছেন।

প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের অবশ্যই বিশ্বব্যাপী সংহতি জোরদার করতে হবে এবং একটি সু-সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। জি-৭, জি-২০, ওইসিডি, এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, আমরা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর সুপারিশ প্রণয়নের জন্য তাদের প্রচেষ্টায় আমাদের পূর্ণ সমর্থন দেবো।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে বিশ্বব্যাপী লজিস্টিক এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধাগুলো মোকাবেলা করা প্রয়োজন। এ প্রয়াস পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বৈশ্বিক বাণিজ্য ও রফতানি আয় পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তর্জাতিক সমর্থনও থাকতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, শুল্ক-মুক্ত-কোটা-মুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং আরও সহজলভ্য অর্থায়ন প্রদান করতে হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, কার্যকর খাদ্য সঞ্চয় ও বিতরণ ব্যবস্থার জন্য কৃষি খাতের জন্য প্রযুক্তি সহায়তা এবং বিনিয়োগে ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বিশেষ করে এলডিসিতে অনেক সম্ভাব্য ব্যবসার সুযোগ রয়েছে।

‘এই এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে আমরা বিদ্যমান উত্তর-দক্ষিণ, দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ট্রায়াঙ্গুলার সহযোগিতার সুবিধা নিতে পারি। এই বিষয়ে বেসরকারি খাতের সাথে সম্পৃক্ততাও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে।’ 

পরিশেষে, ৪৮ সদস্যের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ফোরামের সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, আমরা অনেক এসআইডি এবং নিম্নাঞ্চলীয় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

‘এসব দেশে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গুরুতর চাপে রয়েছে।’ 

বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতায় দৃঢ় বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, মহামারি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টায় জীবন ও জীবিকার সুরক্ষার মধ্যে সতর্ক ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে।

‘আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার প্রদান করেছি। যারা সবচেয়ে পিছনে রয়েছে তাদের সহায়তা দেয়ার আমরা সামাজিক সুরক্ষার কভারেজ প্রসারিত করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের রফতানি খাত ও এসএমইকে সমর্থন করার জন্য বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়েছি। ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আমাদের গত অর্থবছরে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অর্জনে সহায়তা করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধি হিসাবে তিনি বলেন, ‘আমি এই সঙ্কটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষের কণ্ঠস্বর টেবিলে নিয়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় উন্নয়ন যাত্রা অনেক উদ্ভাবনী জলবায়ু কর্মের নেতৃত্ব দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অন্যদের সুবিধার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন, জীব-বৈচিত্রের ক্ষতি এবং পরিবেশগত অবনতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের জ্ঞান, বোঝাপড়া এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই।’

/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
পারিবারিক আদালত আইনের খসড়া অনুমোদন
পারিবারিক আদালত আইনের খসড়া অনুমোদন
ঢাকায় আরও চারটি বড় বাজার করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 
ঢাকায় আরও চারটি বড় বাজার করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 
এনামুলের ব্যাটে আশার আলো দেখছেন ডমিঙ্গো
এনামুলের ব্যাটে আশার আলো দেখছেন ডমিঙ্গো
কর্মকর্তাদের ভিসা ছাড়াই ব্রাজিল যাওয়ার চুক্তির খসড়া অনুমোদন
কর্মকর্তাদের ভিসা ছাড়াই ব্রাজিল যাওয়ার চুক্তির খসড়া অনুমোদন
এ বিভাগের সর্বশেষ
ঢাকায় আরও চারটি বড় বাজার করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 
ঢাকায় আরও চারটি বড় বাজার করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 
গ্রিসে বিশেষ প্রদর্শনীতে ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’
গ্রিসে বিশেষ প্রদর্শনীতে ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’
মুকুল বোসের প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রীর শোক
মুকুল বোসের প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রীর শোক
জাতিসংঘের তিন এজেন্সির কার্যনির্বাহী বোর্ডের বাংলাদেশ সফর
জাতিসংঘের তিন এজেন্সির কার্যনির্বাহী বোর্ডের বাংলাদেশ সফর
নির্ধারিত সময়ের আগেই পদ্মা সেতুর টাকা উঠে আসবে: প্রধানমন্ত্রী
নির্ধারিত সময়ের আগেই পদ্মা সেতুর টাকা উঠে আসবে: প্রধানমন্ত্রী