বাংলা ট্রিবিউনকে ফওজিয়া খন্দকার

মডেল থানা মডেল নয়

উদিসা ইসলাম
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৫:৫৫আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২২:১৯

নারীনেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী ফওজিয়া খন্দকার জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের (ইউএনডিপি) অর্থায়নে ২০০৫ সালে কাগজে-কলমে পুলিশ রিফর্ম প্রকল্প শুরু হলেও ২০০৭ সাল থেকে প্রশিক্ষণসহ নানা কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সময় থেকে দুই দফায় এই প্রকল্পে সক্রিয় ছিলেন নারীনেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী ফওজিয়া খন্দকার। তিনি বলেন, এই প্রকল্পে জেন্ডার ইস্যুটা দ্বিতীয় পর্বে অন্তর্ভুক্ত করা গেছে। গত ডিসেম্বরে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প সময়সীমা শেষ হয়েছে। এখন প্রকল্পটি নতুন করে আসবে কি না, সে সিদ্ধান্ত হয়নি। এই কয়বছরের ব্যর্থতার কথা বলতে গিয়ে ফওজিয়া বলেন, সব করা সম্ভব হয়েছে সে দাবি তো করা যায় না,যেমন মডেল থানা হিসেবে যেগুলোকে ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলো আদৌ মডেল হয়ে উঠতে পারেনি। পুলিশ রিফর্ম প্রকল্পের নানা দিক নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এই প্রকল্পে জেন্ডার ইস্যু নিয়ে প্রশিক্ষণের পরও পুলিশ সদস্যদের আচরণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা যায় না কেন?

একেবারেই যে পরিবর্তন দেখা যায় না, তা কিন্তু না। তবে এই প্রকল্প দিয়ে পুরোটা করা সম্ভব নয় বলেই আমার মনে হয়েছে। সারাদেশে একলাখের বেশি পুলিশের মধ্যে আমরা হাজার পাঁচেককে প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হয়েছি। এই সামান্য পরিমাণে যাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেছে, আমি যা বলতে চেয়েছি, তারা সবাই যে তা শুনবে, সে কথাও আমি জোর দিয়ে বলতে পারি না। তবে এখন কেউ জেন্ডার অসংবেদনশীল আচরণ করলে, তাকে পাল্টা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, এটা কম বড় অর্জন নয়।

আমি যখন থানায় যাই, অদ্ভুত শোনালেও সত্যি, এক ধরনের পুরুষতান্ত্রিক আবহ অনুভব করি। সেখানে নারী পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারাও সিস্টেমের অংশ হয়ে যাওয়ায় ঠিক কমফোর্ট অনুভব করি না। সিস্টেমে ঢুকে যাওয়া নারী পুলিশদের মাথায়ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ছাপ দেখা দিলে আদৌ কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব কি না? আপনার অভিজ্ঞতা কী বলে?

একটাই উপায়। প্রতিনিয়ত তাদের নিয়ে কাজ করা। নারী পুলিশ বলে তাদের আলাদা করে না রেখে আমাদের যে আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচি, সেখানে তাদের সম্পৃক্ত করা জররি। মনে রাখা দরকার, শেষ বিচারে তারাও  নারী, যারা কিনা নারী নির্যাতনের জায়গাগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে অনুভব করতে পারবেন। কারণ, সে যখন পুলিশের পোশাক ছাড়া রাস্তায় চলে, তখন  তাকেও সাধারণ নারীর মতোই হেনস্তা হতে হয়।

যেহেতু এখন প্রকল্পটি শেষ। এখন তারা কিভাবে এই চর্চা চালিয়ে যেতে পারে, সে নিয়ে কোনও উদ্যোগ ছিল কি?

আমরা একটি পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক করে দিয়েছি। সেখানে শুরুতে ক্যাডার নারী পুলিশ কর্মকর্তারা সবাই একমত না থাকলেও মিলি বিশ্বাস, ইয়াসমিন গফুরের মতো নারীরা এর প্রয়োজন বোধ করেছেন। তারা এই নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

যখন শুরুর দিকে পুরুষ পুলিশেরা জেন্ডার নিয়ে আলাপ শুনতেন তারা কী ধরনের ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছেন?

কেবল শুরুতে না, এখনও তারা ধাক্কা খান, এখনও সব কথা শুনতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি। নারীর প্রতি মর্যাদার কথা বললে তারা নানারকম তুলনামূলক আলাপ তোলার চেষ্টা করেন। নারী নানা সুবিধা নেন, ফলে তিনি সমানাধিকার কেন দাবি করবেন। সেই প্রশ্ন এখনও সমাধান হয়নি তাদের মনে। সেটা দুঃখজনক। আর যে কারণে মডেল থানাগুলো এখনও মডেল হয়ে উঠতে পারেনি। এটা প্রকল্পটির একটা ঘাটতির জায়গা বলেই আমি মনে করি।

নারীনেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী ফওজিয়া খন্দকারের সঙ্গে রিপোর্টার কেন একথা বলছেন? কোন জায়গায় ঘাটতির কারণে এটা হলো না?

পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বের হওয়া সহজ নয়। আমরা যাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি, তারা এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন সেই আশাও করা যাচ্ছে না। কারণ, তাদের চাকরিতে বদলির রেওয়াজ অনেক বেশি। যদিও মানসিক দিক থেকে তারা, অন্তত সিনিয়ররা জেন্ডার প্রোগ্রামটাকে গ্রহণ করেছেন। ব্যবহারিক জায়গায় বদল ঘটতে সময় লাগবে। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে থানাগুলোর জন্য একটা গাইডলাইন করে দেওয়া হয়েছিল। থানায় নারীরা গেলে তাদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করতে হবে, কী উদ্যোগ নিতে হবে, সেসব নিয়ে এই গাইডলাইন। কিন্তু কোথাও সেটা আছে কি না, সন্দেহ।  

মনিটরিং হয়েছিল কি না, সবার কাছে এই গাইডলাইন আছে কি না?

সে রকম পদ্ধতিগতভাবে হয়েছে তা নয় কিন্তু কোথাও কোথাও আছে। তৃতীয় দফায় এই প্রকল্প এলে এসব আরও গুছিয়ে করার সুযোগ আছে। যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কোনও সম্ভাবনার খবর আমি জানি না। এটা ইতিবাচক যে, বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ নেটওয়ার্কে করে দেওয়া হয়েছে। তারা এখন কাজটি নিয়ে এগুচ্ছেন।

সফলতার কথা যদি উল্লেখ করতে বলা হয়?

আছে তো। ভিটটিম সাপোর্ট সেন্টার বিভাগীয় শহরগুলোয় করা সম্ভব হয়েছে। সেখানে ভিকটিমরা সেবা পাচ্ছেন। কেউ যদি ভিটটিমদের সেবা দিতে এবং সহায়তা দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে বিষয়টা আমাদের জানাবেন। এর সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সম্পৃক্ত আছে। সেগুলো ভিকটিমদের আইনি, সামাজিক নানা সহায়তা দিয়ে থাকে।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম।

/এমএনএইচ/এপিএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি