স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নতি এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্য কমলেও এতে সরকার পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সরকার এসব ক্ষেত্রে আরও বেশি কাজ করতে চায় উল্লেখ করে এ জন্য সিপিডিসহ সব গবেষণা সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘সংকটে অর্থনীতি: কর্মপরিকল্পনা কী হতে পারে?’ শীর্ষক সিপিডি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
বর্তমান অর্থমন্ত্রীকে সংকটে দৃশ্যমানভাবে পাওয়া যায় না, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি অর্থমন্ত্রী চালান না, অর্থনীতি পরিকল্পনামন্ত্রী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর চালান না। অর্থনীতি বাই রুল, বাই অর্ডার, বাই অবলিগেশন চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এটাই আইন, কারণ উনি (প্রধানমন্ত্রী) সরকারপ্রধান। তার থেকে এসব নেমে আসে। আমি হয়তো আজ অসুস্থ বা অন্য কেউ অসুস্থ হলেন, আমি হয়তো অফিসে গেলাম না। তাই বলে কাজ তো আর পড়ে থাকবে না। আমি বলতে চাই আমরা অর্থনীতি চালাচ্ছি। জেনেশুনেই চালাচ্ছি। আমাদের কিছু পণ্ডিত (এক্সপার্ট) আছেন কাজ করেন। তাদের আমরা বিশ্বাস করি।’
গত ১০ থেকে ১২ বছরে মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে দাবি করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা গ্রামীণ হাওর এলাকার প্রতিনিধিত্ব করি। প্রতি সপ্তাহে হাওরে যাই, সেখানে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলি। হাটবাজারে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলি। বর্তমান সরকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে। আগে যেভাবে চালের হিসাব করতে দেখেছি, এখন তা নেই। যে গ্রামে আমি কাদাপানি ভেঙে, সাঁতরে স্কুলে গেছি, এখন বাচ্চারা মোটরসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। আপনারা কালো মেঘ দেখছেন, আমরা সিলভার লাইটিং বেশি দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। গত চার মাস একটানা মূল্যস্ফীতি কমছে, তবে অত্যন্ত নিম্নহারে। আশানুরূপ হারে কমছে না। আমাদের ফ্যাক্ট, ফিগার ও তথ্য ও বিসিএস সেটাই বলে। তবে যদি কেউ বলেন এটা সঠিক নয়, আমি তার সঙ্গে আমি বিবাদে যাবো না। এটাকে আমি প্রয়োজন মনে করি না। আমরা সংখ্যা নিয়ে অসত্য কথা বলি না। আমাদের প্রবৃদ্ধির ফিগার এডিবি, বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ স্বীকার করেছে।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী হক চৌধুরী ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স সলিডারিটির সভাপতি তাসলিমা আক্তার লিমা বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন:









