ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা পুর্নব্যক্ত করে চলতি ২০২২ সালকে ব্যস্ততার বছর বলে আখ্যায়িত করেছেন নির্বাচন কমিশন আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি যে, এ বছরের শেষে বা আগামী বছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ অনুষ্ঠিত হবে। তাই কাজের সময়ের সঙ্গে হাঁটলে আমাদের আর হবে না, আমাদের দৌঁড়াতে হবে।’
রবিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান এসব কথা বলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণের কাজটা আগামী জুনে সম্পন্ন করার আশা করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘মে মাসের মধ্যেই যাতে করতে পারি, সে চেষ্টা থাকবে। জনশুমারির চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোকে চিঠি লিখেছি। তারা জুনের পরে ওটা করলে তো, সেটা আমলে নেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বর্তমানে যে অবস্থা আছে সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। খুব বেশি আসনের প্রস্তাব আমরা পাইনি। যেগুলো পেয়েছি সেগুলোর ওপর কাজ শুরু করেছি।’
নতুন দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়াও জুনের মধ্যে করে ফেলার আশা প্রকাশ করেন এই কমিশনার।
তিনি বলেন, ‘২ মার্চ হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে আমরা ভোটকেন্দ্রের কাজে হাত দেবো। সীমানা পুর্নির্নিধারণ হলে আগস্টের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হবে। তবে চূড়ান্ত করতে হয়তো নভেম্বর পর্যন্ত লেগে যাবে।’
ইভিএমের নতুন প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে বিবেচনার জন্য থাকার প্রসঙ্গ টেনে এই কমিশনার বলেন, ‘সরকার থেকে ১৩ জন জনবলের অনুমোদন দিয়েছে। এই ১৩ জন জনবল দিয়ে কিন্তু চালানো যাবে না। অর্থ বিভাগকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বলেছি। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্প পাস না হলে আমাদের জন্য খুবই ডিফিকাল্ট হবে। কেননা, এলসি হবে বিদেশ থেকে মালামাল আসবে। এসব নানা কর্মযজ্ঞ রয়েছে। আমরা ইভিএমের নতুন প্রকল্প না হলে হাতে যা আছে, তা দিয়ে যতটুকু করার সম্ভব, ততটুকু করবো। বাকি আসনে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ করবো।’
রোডম্যাপ অনুযায়ী বর্তমান কমিশন পিছিয়ে নেই বলে মনে করেন এই কমিশন। বলেন, ‘রোডম্যাপে আমরা পিছিয়ে নেই। সবকিছু সময় অনুযায়ী হচ্ছে।'
রংপুর সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের বিলম্বের তথ্য তল্লাশে কমিশন আগামী সপ্তাহে বসবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক যারা ঢাকা থেকে গিয়েছিলেন তাদের আমন্ত্রণ জানাবো। যারা অবজারবার ছিলেন তাদের আমন্ত্রণ জানাবো। এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা থাকবেন। ৭টার সময়ও ৩০ জন লাইনে ছিলেন ভোটাররা একটা কেন্দ্রে। এটা আমরা অতীতে দেখি নাই। কেন হয়েছে এমন, আগামী সপ্তাহে খতিয়ে দেখবো।,
সব দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এই কমিশনার বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, গত সপ্তাহেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, কাউকে ভোটকেন্দ্রে আনার দায়িত্ব আমাদের না। কোনও দল বা কাউকে নির্বাচনে আনারও দায়িত্ব নয়। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, আশা করছি তারা আসবে। নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য যা যা করার দরকার, আমরা তা করবো। কাজেই কেউ না যদি আসে, তাদের আনার জন্য আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা সেই কাজ করবোও না। তাদের কাজ তারা করবেন। আমরা আমাদের কাজ করবো। আমরা চেষ্টা করে যাবো, বলবো যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। আশা করছি যে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।’
বিএনপি আবারও বর্জন করলে নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনও ভোটের অনেক সময় আছে। অংশ না নিলে তখন বলা যাবে। এত আগ বাড়িয়ে বলার সুযোগ নেই। আমরা ওইভাবে হয়তো আর বসবো না। আপাতত কোনও পরিকল্পনা নেই সংলাপের।’
দলগুলো নির্বাচন আসবে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আনিছুর বলেন, ‘তারা আমাদের অধীনে একটা নির্বাচনেও অংশ নেয়নি। অংশ নিয়ে বলুক যে ভোট সুষ্ঠু হয়নি। তারা ডে ওয়ান থেকেই তো আমাদের মানছে না। আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াই নাকি স্বচ্ছ হয়নি। আইনের আওতায় প্রথম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও বলা হচ্ছে— আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়নি। আমাদের তো কিছু করার নেই।’









