দক্ষিণ সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে। দেশটির নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা সেখানে প্রতিনিয়ত মানবিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এবার স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে সেখানকার স্থানীয়দের মাঝে চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ তুলে দিয়েছেন।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ সুদানের বাহার আল গজল প্রদেশে নিয়োজিত ব্যানব্যাট-৬ কন্টিনজেন্ট ওয়াও শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসা সামগ্রী এবং ওষুধ হস্তান্তর করেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। ২৬ মার্চ এ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। সুদান বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্বে থাকা ব্যানব্যাট ৬ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সেখানে যে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়, তাতে পারস্পরিক আস্থার একটি মেলবন্ধন পরিলক্ষিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাহার আল গজল প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডিজি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ব্যানব্যাট-৬ এর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ শাফকাত-উল-ইসলাম, পাবলিক রিলেশন অফিসার লেঃ কর্নেল মো. রুহুল আমিন, ইন্টিলিজেন্স অফিসার লেঃ কর্নেল মো. মাকসুদুল আলমসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
একদিকে অস্ত্র হাতে নিরাপত্তা টহলে সক্রিয় অংশগ্রহণ, অন্যদিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, গবাদিপশুর চিকিৎসা, বই-খাতা ও স্টেশনারিজ প্রদান, স্থানীয় কৃষকদের কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির বীজ সরবরাহ, ছিন্নমূল মানুষদের জামা-কাপড় সরবরাহ, যুবক ও শিশুদের খেলাধুলা সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় জনগণের পরম বন্ধু রূপে হয়েছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব মানবিক সেবা দেওয়ায় দক্ষিণ সুদানবাসী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
ব্যানব্যাট-৬ এর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ শাফকাত-উল-ইসলাম বলেন, প্রতিমাসে ওয়াও শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি কন্টিনজেন্ট থেকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এখানে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অপ্রতুলতার জন্য স্থানীয় জনসাধারণ সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ সুদানে অবস্থিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করে।
কন্টিনজেন্ট পাবলিক রিলেশন অফিসার লেঃ কর্নেল রুহুল আমিন বলেন, ‘জাতিসংঘের দেওয়া ম্যান্ডেট বা অর্পিত দায়িত্বের বাইরেও আমরা এখানকার সাধারণ অসহায় মানুষদের সিমিক প্রোগ্রামের আওতায় নানা ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যার অন্যতম হচ্ছে- সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় মানুষদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সামগ্রী বিতরণ।
লেঃ কর্নেল রুহুল আমিন আরও বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দেশের এই সম্মান ও মর্যাদা ধরে রাখতেই সিভিল মিলিটারি কোঅপারেশন (সিমিক) কার্যক্রমের আওতায় নানাবিধ সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশ্বের সংঘাতময় এলাকাগুলোতে শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সেনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপদ্রুত এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছে। প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন সেনা সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও অবদান রাখছে।








